চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:২৩ পিএম
আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:০৪ পিএম
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার কালিরবাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিন গ্রামবাসীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাতে সংঘর্ষের জেরে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের দুইপাশে ধাওয়া–পাল্টাধাওয়ার কারণে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় মহাসড়কে আটকে পড়া একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি মহাসড়কের দুইপাশের বাজারের অন্তত ১০-১২টি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। আহত হয়েছেন অন্তত ৮-১০ জন।
আহতদের মধ্যে রামচন্দ্রপুর গ্রামের বদিউল আলমের ছেলে অনিক এবং গোমারবাড়ির আবুল কাশেমের ছেলে রায়হানের নাম জানা গেছে। খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
স্থানীয় সূত্র জানা যায়, গত রবিবার রাতে কালিরবাজার হোসাইনিয়া মাদ্রাসার ওয়াজ মাহফিলে রামচন্দ্রপুর, গোমারবাড়ি ও পাঁচরা গ্রামের কয়েকজন কিশোরের মধ্যে ঝামেলা হয়। এর জেরে সোমবার সন্ধ্যায় তিন গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জড়ো হলে ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এতে অন্তত ৮-১০ জন আহত হয়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন বাজারের ১০-১২টি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করে। সংঘর্ষের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে অন্তত ২ কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয় এবং ৫-৬টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
কালিরবাজার এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন জানান, রবিবার রাতে কালিকাবাজারের একটি ওয়াজ মাহফিলে রামচন্দ্রপুর, গোমারবাড়ি ও পাঁচরা গ্রামের ছেলেদের মধ্যে ঝামেলা হয়। এর জেরে সোমবার সন্ধার পরে উভয় গ্রামের লোকজন জড়ো হয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তারা আমার দোকানসহ বাজারের ১০-১২টি দোকানে হামলা ও ভাংচুর চালায়। হামলাকারীরা আমার দোকানে থাকা কয়েক লাখ টাকা ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
রামচন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুস সোবহান জানান, মাগরিবের আগে রামচন্দ্রপুর গ্রামের আমার দোকানসহ একাধিক দোকান ও বাড়িঘরে হামলা হয়।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, কালিরবাজার এলাকায় তিন গ্রামবাসীর সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। মহাসড়কে কিছুক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকলেও পরে স্বাভাবিক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।