খুলনা অফিস
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:১০ পিএম
আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:৪২ পিএম
খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরের ফটকের অদূরে প্রকাশ্যে সংঘটিত জোড়া হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। তবে, পুলিশ বলছে হত্যাকারীদের শনাক্ত করা গেছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে একটি অস্ত্র মামলায়
হাজিরা শেষে আদালত এলাকা থেকে বের হওয়ার পর প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন হাসিব হাওলাদার
(৪০) ও ফজলে রাব্বি রাজন (৩৫)। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘাতকরা পরিকল্পিতভাবে
দুইজনকে প্রথমে কুপিয়ে পরে গুলি করে হত্যা করে। একই দিনগত রাতে নগরীর জিন্নাপাড়া এলাকায়
আবারও গুলির ঘটনা ঘটে; সম্রাট কাজী (২৮) নামের এক যুবকের ওপর লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে
দুর্বৃত্তরা।
পুলিশ বলছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড
ঘটেছে। নিহত হাসিব ও ফজলে রাব্বি দু’জনই খুলনার কুখ্যাত পলাশ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য।
এই গ্রুপের সঙ্গে আশিক-নূর আজিম ও বি-কম্পানি নামে আরও একাধিক সংঘবদ্ধ গ্রুপের দীর্ঘদিনের
বিরোধ রয়েছে।
ফজলে রাব্বির বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজির
৬টি মামলা রয়েছে। হাসিব একটি অস্ত্র মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র
বলছে, কয়েকটি গ্রুপে ভাগ হয়ে প্রতিপক্ষরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। হত্যার পর তাদের দ্রুত
পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করা হয়।
গত ৩০ মার্চ নগরীর আরামবাগ এলাকায় পুলিশ ও যৌথবাহিনীর
অভিযানে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার এবং গ্রেপ্তার হওয়া ১০ জনের মধ্যে ছিলেন পলাশ গ্রুপের
প্রধান পলাশ শেখ। সেই মামলায় নিহত রাজন ছিলেন ছয় নম্বর আসামি এবং হাসিব ছিলেন চার্জশিটভুক্ত
আসামি। পলাশ বর্তমানে কারাগারে এবং প্রতিপক্ষ গ্রুপগুলোর প্রধানরা পলাতক।
সংবেদনশীল আদালত এলাকায় এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে উদ্বেগ
প্রকাশ করেছেন খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা। সমিতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ
হোসেন বাচ্চু ও সদস্য সচিব শেখ নুরুল হাসান রুবা এক বিবৃতিতে বলেছেন, আদালত অঙ্গনের
নিরাপত্তা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসনকে
আরও কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রবিবার রাত ৯টার দিকে জিন্নাপাড়া
এলাকায় সম্রাট কাজী নামের এক যুবকের ওপর গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিটি
তার বাম হাতে লাগে। তিনি নড়াইলের কাজী আজিজুর রহমানের ছেলে এবং বর্তমানে শিপইয়ার্ড
এলাকায় বসবাস করেন। আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
লবণচরা থানার ওসি হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম
বলেন, সম্রাট কাজী শিপইয়ার্ডে অফিস সহকারী হিসেবে কাজ করেন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে
তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে বলে ধারণা করছি।
প্রকাশ্যে আদালত চত্বরে দুপুর বেলায় জোড়া খুন ও
রাতেই আরেক গুলির ঘটনায় খুলনা শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশের দাবি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে; তবে নাগরিকদের উদ্বেগ রয়ে গেছে।
খুলনা থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, নিহত দু’জনের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। তবে আমরা প্রাথমিকভাবে হত্যাকারীদের শনাক্ত করেছি এবং গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি। খুব দ্রুত অগ্রগতি পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।