ইসমাইল মাহমুদ, মৌলভীবাজার ও মো. জালাল উদ্দিন, শ্রীমঙ্গল
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:০৫ পিএম
দেশের নানা প্রান্তের পর্যটকরা প্রতিদিনই আসছেন লাল শাপলা বিলের আকর্ষণে। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ হাইল হাওরজুড়ে ফুটে থাকা লাল শাপলার সৌন্দর্য সবাইকে আকৃষ্ট করছে। ভোরের প্রথম আলোয় বিলজুড়ে হাজারো লাল শাপলার সৌন্দর্যে তৈরি হয় রঙিন ও মনোমুগ্ধকর এক আবহ। প্রাকৃতিক এই মনমুগ্ধকর সৌন্দর্যের আকর্ষণে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সের মানুষের পদচারণায় মুখর শ্রীমঙ্গলের নতুন পর্যটনকেন্দ্র।
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল
ও সদর উপজেলা এবং হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত সুবিশাল হাইল হাওর। ১৪টি
বিলের সমাহারে এই বিশাল জলাধার। বিলের একটি সানন্দা বিল। এর অবস্থান মৌলভীবাজার জেলার
শ্রীমঙ্গল উপজেলার ১ নম্বর মির্জাপুর ইউনিয়নে। সাম্প্রতিককালে বিলটি সুপরিচিতি লাভ
করেছে। আদি নাম সানন্দা বিল হলেও বর্তমানে সৌন্দর্যপিপাসুদের কাছে লাল শাপলা বিল নামে
পরিচিত। বিলটিতে বিশালাকার সবুজ শাপলা পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফুটে রয়েছে হাজার হাজার লাল
রঙের শাপলা ফুল। যত দূর চোখ যায়, ততো দূর পর্যন্ত দেখা মেলে ফুটন্ত লাল শাপলার। দূর
থেকে দেখে মনে হয় যেন এক লাল গালিচার রাজ্য। বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের নানা
প্রান্ত থেকে প্রতিদিনই ভিড় করছেন হাজারো মানুষ। শাপলা বিলের কল্যাণে প্রত্যন্ত মির্জাপুর
এলাকা এখন পরিচিত একটি নাম।
শাপলা বিল ভ্রমণে আসা
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার জুবায়ের আহমদ বলেন, ‘পুরো সিলেট অঞ্চলের প্রতিটি কোণ যেন
এক একটি পর্যটনকেন্দ্র। যেখানে যাই সেখানেই যেন প্রকৃতি সৌন্দর্যের ঢালি সাজিয়ে রেখেছে।
শ্রীমঙ্গলের শাপলা বিলে এসে ভালো লাগছে।’
শ্রীমঙ্গলের কলেজছাত্রী
দীপান্বিতা দাশগুপ্তা বলেন, ‘শাপলা বিলের সৌন্দর্যের কথা শুনে বান্ধবীদের নিয়ে এটি
দেখতে এসেছি। একসঙ্গে এত লাল শাপলা প্রথম দেখলাম। আমরা মুগ্ধ।’
দর্শনার্থী ফাহিম আহমদ
বলেন, ‘প্রতি বছর এখানে শাপলা ফুল ফুটলেও তা ছিল সংখ্যায় অনেক কম। এ বছর বিলটি হয়ে
উঠেছে লাল শাপলার রাজ্য। লাল শাপলার পাশাপাশি অনেক প্রজাতির পরিযায়ী পাখিও রয়েছে। মন
জুড়িয়ে গেছে।’
হবিগঞ্জের ব্যবসায়ী
জমসেদ আলী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছেন শাপলা বিল দেখতে। তিনি বলেন, ‘শাপলা বিল পর্যটনশিল্পে
এক নব-সংযোজন। আমার ছেলেমেয়ে বিলটির সৌন্দর্যে এতটাই বিমোহিত, তাদের আবদারÑ যেন এখানেই
থেকে যাই।’
মির্জাপুর ইউনিয়নের
যাত্রাপাশা গ্রামের বাসিন্দা ও বাজারের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী মো. জাকির হোসেন বলেন,
‘সানন্দা বিলের লাল শাপলার আকর্ষণে হাজারো মানুষ আসছেন। এলাকার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে
লাভবান হচ্ছেÑ বাজারের হোটেল-রেস্তোরাঁ, মুদি দোকান থেকে শুরু করে অন্য ব্যবসায়ীরাও
লাভবান হচ্ছেন। অনেকেই ফুল ছিঁড়ে নিচ্ছেন। তাদের কাছে অনুরোধ ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ
করুন, ফুল ছিঁড়বেন না।’
সানন্দা বিলের নৌকার
মাঝি তাহির মিয়া বলেন, ‘এখন মাছ ধরার মৌসুম। আমরা মাছ ধরা বাদ দিয়ে এখন নৌকা চালিয়েই
লাভবান হচ্ছি।’
মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের
সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ আবু আজম বলেন, ‘শাপলা বিলটি অপরূপ সৌন্দর্যময়। লাল শাপলা রাতে
ফোটে তাই খুব সকালে এলে এর আসল সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।’
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘মির্জাপুরের লাল শাপলা এখন সৌন্দর্যপিপাসুদের কাছে
অন্যতম আকর্ষণ। প্রতিদিনই পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। শ্রীমঙ্গলের মতো মির্জাপুরও পরিচিত
হয়ে ওঠছে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের
সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।’