মোরেলগঞ্জ
এম. পলাশ শরীফ, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট)
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:০১ পিএম
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে অর্ধশতাধিক জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত ভবন যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ার শঙ্কায় স্থানীয়দের মাঝে তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক। সাম্প্রতিক ভূমিকম্প পরিস্থিতিতে এসব ভবনকে ঘিরে ঝুঁকি আরও বেড়ে যাওয়ায় দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিন জানা যায়, একদিকে বঙ্গোপসাগরের পানগুছি ও বলেশ্বর নদী অন্যদিকে সুন্দরবনঘেঁষা নদীমাতৃক এ জনপদে প্রায় ৪ লাখ মানুষের বসবাস। উপকূলীয় বাগেরহাটের ঐতিহাসিক মোরেলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দশকের পর দশক ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে বহু ভবন। উপজেলার নামকরণকারী রবার্ট মোরেলের স্মৃতিবিজড়িত ১৮৪৯ সালে নির্মিত কুঠিবাড়ী, আশির দশক অথবা তারও আগে নির্মিত প্রশাসনিক ভবন, স্বাস্থ্য ও কৃষি অধিদপ্তরের গুদামঘর, আবাসিক কোয়ার্টারসহ অন্তত ৫০টিরও বেশি ভবন এখন নাজুক অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।
ঐতিহাসিক তথ্য মতে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি রবার্ট মোরেলের স্ত্রী হেনরি মোরেল পানগুছি নদীর তীরে নির্মাণ করেছিলেন বিশাল কুঠিবাড়ী কমপ্লেক্স। অশ্বমালা, গোপন সুড়ঙ্গপথ, নাচঘর, গুদামঘর, লাঠিয়াল বাহিনীর কক্ষসহ বহু স্থাপনা নিয়ে গড়ে ওঠা এ ভবনটি আজ প্রায় দেড়শ বছর পর পরিত্যক্ত অবস্থায় কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসন এলাকা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কৃষি অধিদপ্তর, বিআরডিবি দপ্তর, খাদ্যগুদাম, টিটিসি ভবনসহ অন্তত ২৫ থেকে ৩০ বছর ধরে অকার্যকর ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে বহু স্থাপনা। এর মধ্যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৬টি ভবন দুই দশক ধরে পরিত্যক্ত। অনেক টিনশেড আবাসিক ভবনে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রশাসনের আবাসিক এলাকায় ৪টি পরিত্যক্ত ভবনের তালিকা দুই বছর আগে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। ওপর থেকে নির্দেশনা অপেক্ষায় আছে।
উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার আব্দুল্লাহ আল জাবির বলেন, উপজেলা পরিষদের পুরাতন ভবন ও বেশকিছু আবাসিক ভবন ইতোমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। চিহ্নিত ভবনের তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামাল হোসেন মুফতি বলেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বাসভবনসহ ৬টি ভবন বহু বছর ধরে পরিত্যক্ত। এগুলো অপসারণের জন্য ইতঃপূর্বে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সদ্য যোগদান করেছি, এসব ভবন অপসারণের বিষয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, সাম্প্রতিক আমরা বাংলাদেশে বেশকিছু ভূমিকম্পের সম্মুখীন হয়েছি। এ উপজেলায় বেশকিছু পরিত্যক্ত ভবন রয়েছে। উপজেলা পরিষদের সভায় উত্তোলন করে এগুলো অপসারণের প্রচেষ্টা থাকবে।