কালীগঞ্জ
কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:২৯ পিএম
আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:৩৭ পিএম
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় দিন দিন মাদকের বিস্তার ঘটছে। শহর থেকে গ্রামসহ সব খানেই ছড়িয়ে পড়েছে মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের নেটওয়ার্ক। বিশেষ করে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজার সহজলভ্যতা উঠতি বয়সি ছেলেদের নেশায় টানছে। দেশে ঢুকছে ট্যাপেন্ডাডল নামের আরেকটি নেশা জাতীয় ট্যাবলেট।
জানা গেছে, নেশার টাকার জোগাড় করতে গিয়ে মাদকাসক্তরা চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, রাহাজানির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। মাদকাসক্ত সন্তানকে নিয়ে অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। মাদকাসক্তদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এলাকায় উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
কালীগঞ্জ পৌর এলাকা ছাড়াও আশপাশের বহু গ্রামে মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছে। এর মধ্যে কাশিপুর, চাচড়া, শিবনগর, আড়পাড়া, নদী-আড়পাড়া, ঢাকালে পাড়া, বলিদাপাড়া, সিঙ্গী, রায়গ্রাম, দুলালবন্দিয়া, ফয়লা, হেলাই, মাস্টারপাড়া, পাইকপাড়া, চাপালী, শ্রীরামপুর, আনন্দবাগ, খয়েরতলা, বাকুলিয়া, ভাটপাড়া, মহাদেবপুর ও আলাইপুরসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাদক বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা জানান, মাদক ব্যবসায়ীরা শুধু মাদক বিক্রি করে ক্ষান্ত নয়। তারা বাইরের জেলা থেকে আসা মাদকাসক্তদেরও নেশা করার নিরাপদ জায়গা করে দিচ্ছে। অনেক যুবক পাশের জেলা থেকে এখানে আসে নেশা করার জন্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালালেও কমছে না মাদকচক্রের দৌরাত্ম্য।
যৌথ বাহিনী মিলেই নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। মাঝেমধ্যে মাদকসহ একাধিক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারও করা হয়। কিন্তু দেখা যায় অল্পদিনের মধ্যেই তারা জামিনে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। ছাড়া পেয়ে আবার আগের মতোই মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে।
স্থানীয় ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ভাষ্য, যতই অভিযান হোক, সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। মাদক যেন আরও ছড়িয়ে পড়ছে শহর থেকে গ্রামাঞ্চলে। এসব নেশাতে জড়িয়ে পড়ছে নামিদামি পরিবারের সন্তানেরাও। মাদকাসক্তদের মধ্যে এখন সম্ভ্রান্ত ও শিক্ষিত পরিবারের তরুণদের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। এতে পরিবারে অস্থিরতা, সামাজিক অবক্ষয় এবং অপরাধপ্রবণতা ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম মাদকবিরোধী অভিযানের বিষয়ে নীতিগত অবস্থান তুলে ধরে বলেন, কালীগঞ্জকে মাদকমুক্ত করতে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। মাদক ব্যবসায়ী বা সেবনকারী কেউই ছাড় পাবে না। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই স্থানীয়রা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুক। তাহলেই মাদকচক্রকে সম্পূর্ণরূপে দমন করা সম্ভব।