চকরিয়া
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:২৬ পিএম
আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:৩১ পিএম
কক্সবাজারের চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়নের ছিউনি খাল ও আশপাশের সাবানঘাটা, সেগুনবাগান, গয়ালমারা, কাট্টলি ও কোরবানিয়া ঘোনা এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, পাহাড়ি ছড়ায় বসানো শ্যালো মেশিন ও হাতচালিত সরঞ্জাম দিয়ে নিয়মিত বালু তোলা হচ্ছে এবং তা প্রতিদিন ডাম্পারযোগে পাচার করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পাহাড় ও কৃষিজমি ঝুঁকির মুখে পড়ছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চলও। অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত এসব বালু উত্তোলন করে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাচার করছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সাজ্জাদ হোসেন, খানে আলম, রাজিব, রাসেল, ফারুকের নেতৃত্বে একটি অবৈধ বালুখেকো সিন্ডিকেট। তারা সবাই হারবাং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা।
সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া হারবাং ইউনিয়নের করমহুরী পাড়া গ্রামীণ সড়ক ধরে দুই কিলোমিটার ভেতরে পাহাড়ি জনপদ। এই জনপদে পাহাড়ি ছড়ায় বসানো হয়েছে একাধিক বালু উত্তোলনের শ্যালো মেশিন। আবার অনেকে দেশীয় যন্ত্র ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করছেন। অবৈধভাবে এসব জায়গা থেকে বালু উত্তোলনে দুই পাশের পাহাড় ভেঙে নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে। উত্তোলন করা বালু সাবানঘাটা ও সেগুনবাগান এলাকায় মজুদ করা হচ্ছে। এখান থেকেই প্রতিদিন ৭০-৮০ ডাম্পার বালু বিক্রি করা হয়। দিনদুপুরে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ওই বালুখেকো সিন্ডিকেট। বড় বড় ডাম্পার চলাচলে স্থানীয় জনজীবনে যেমন দুর্ভোগ হচ্ছে, তেমনি ধ্বংস হচ্ছে সংরক্ষিত বন এলাকা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, অতীতে এ কারণে বহু আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিদিন যে পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে তাতে পাহাড়ি ছড়ার দুই পাশে পুনরায় ভাঙন ধরেছে। এ কারণে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ছড়ায় তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসবের প্রতিবাদ করলে বালুখেকো সিন্ডিকেটে জড়িতরা মারধরসহ প্রাণনাশেরও হুমকি দেন।
অবৈধ বালু উত্তোলন বিষয়ে খানে আলম বলেন, ‘সরকারি ইজারাকৃত জায়গা থেকে প্রত্যাশিত বালু উত্তোলন করা যাচ্ছে না। আমাদের লগ্নিকৃত পুঁজি তুলে আনতে হবে।’
এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ন দেব বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে বালু উত্তোলনের জায়গায় বনভূমি পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তা ছাড়া বন ও পরিবেশ রক্ষায় বন বিভাগ সদা তৎপর রয়েছে।