শাহজাহান ইসলাম লেলিন, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী)
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৯:২৫ এএম
জরাজীর্ণ বিদ্যালয়ের ভবন। দেওয়ালে ফাটল। হঠাৎ ধসে পড়ে ছাদের পলেস্তারা। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবন প্রায় দেড় বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীকে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান দেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান পড়ে যাচ্ছে।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকালে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের দক্ষিণ মেলাবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।
জানা যায়, ১৯৯৫ সালে বিদ্যালয়ের একটি এক তলা ভবন নির্মাণ করা হয়। এরপর আর কোনো সংস্কার করা হয়নি। এখন ভবনের দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতে পাঠদান সম্ভব নয় বলে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
বর্তমানে বিদ্যালয়ের দুই সিফটের প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীকে রোদ, বৃষ্টি কিংবা শীত প্রতিদিনই অসহনীয় পরিবেশে মাঠে ক্লাস করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকালে শিক্ষার্থীরা মাঠে বিছানো মাদুরে বসে ক্লাস করছে। তামিম নামে চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলে, প্রত্যেক দিন স্কুলে আসার পরে বাইরে বসে ক্লাস করতে হয়। বাড়ি থেকে গোসল করে ভালো কাপড় পরে এলে এখানে এসে সব ময়লা হয়ে যাচ্ছে।
শিক্ষার্থী সালমা আক্তার বলে, আমাদের এভাবে মাটিতে বসে ক্লাস করতে ভালো লাগে না। আমরা অনেকদিন ধরে ক্লারুমে ক্লাস করতে পারছি না।
মহিউদ্দিন নামে এক অভিভাবক বলেন, আমার বাচ্চা বিদ্যালয়ে পড়ে। কিন্তু এখানে এসে মাঠে ক্লাস করছে। শিক্ষার্থীরা মাঠে ক্লাস করার কারণে মনোযোগ হারাচ্ছে।
শিক্ষিকা সুমি বেগম বলেন, ক্লাসরুমে পাঠদান করাতে পারছি না। সকালে বাচ্চারা আসে। এসে মাঠে বসে ক্লাস করতে হয়। আমরা শিক্ষকরা একটু গিয়ে অফিসে বসব সে অবস্থাও নেই। বাচ্চাদের মাঠে বসে ক্লাস করায় কখনও মনোযোগী হয় না। তারা শিশুবাচ্চা তাদের জন্য দরকার মনোরম পরিবেশ।
আরেক শিক্ষক হেলাল উদ্দিন বলেন, আমরা খুব কষ্টে শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছি। অন্য স্কুলে বরাদ্দ আসে, কাজ হয়, সবকিছু হয়। কিন্তু আমাদের স্কুলে একটা ভবন না হওয়ায় আমরা সমস্যায় আছি খুব।
মেলাবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাক আহমেদ বলেন, আমরা খুব নাজুক অবস্থায় আছি। পাঠদানের কোনোরকম পরিবেশ পাচ্ছি না। ভবনে ক্লাস নেওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে মাঠে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছি। বর্ষাকালে আমরা ক্লাস করাতে পারি না। আমাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। আমরা এক বছর আগে জরুরি ভবন বরাদ্দের জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু এখনও অনুমোদন হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. মাহমুদা খাতুন বলেন, বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এডিপি বরাদ্দের জন্য চেষ্টা করছি। ইউএনওর সঙ্গে কথা বলে সেখানে আপাতত একটি টিনের চালার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যার কাজ সামনে মাসে শুরু হবে। সেখানে একটি ভবনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে পাবে।