বরিশাল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ১৭:৫৯ পিএম
বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা সালাম মৃধাকে সংবর্ধনা। প্রবা ফটো
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল শিকদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাদুর খান গত ২৮ নভেম্বর বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ঘোষিত কেন্দ্রীয় দোয়া কর্মসূচিকে উপেক্ষা করে দল থেকে বহিষ্কৃত নেতা সালাম মৃধাকে জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা দিয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
চলতি বছরের ৯ মার্চ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে সালাম মৃধাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলেও গত ১৭ নভেম্বর তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। ঠিক ১১ দিন পর কেন্দ্রীয় দোয়ার দিনে তাকে ফুলেল সংবর্ধনা দেওয়া কেন্দ্রীয় নির্দেশনার প্রতি চরম অবজ্ঞা বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
জানা গেছে, অতীতে সালাম মৃধা আহ্বায়ক ও সোহেল শিকদার সদস্য সচিব থাকাকালীন ইউনিয়ন বিএনপির ভেতরে চাঁদাবাজি, পদ-বাণিজ্য ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। সালাম মৃধার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর সোহেল শিকদার আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিএনপির স্থানীয় একাধিক নেতা বলেন, যেদিন দেশনেত্রীর জন্য দোয়া হচ্ছে, সেদিন বহিষ্কৃত একজন নেতাকে সংবর্ধনা দেওয়া মানে দলের প্রতি, নেত্রীর প্রতি এবং তৃণমূলের প্রতি চরম অসম্মান। এটি শুধু শৃঙ্খলাভঙ্গ নয়, দলের ভাবমূর্তি নষ্টের সুকৌশল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আব্দুল লতিফ মাসুম বলেন, বিএনপির মতো একটি বড় দলের ভেতরে এ ধরনের বিদ্রোহ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যারা কেন্দ্রের নির্দেশ অমান্য করে বহিষ্কৃত নেতাকে সংবর্ধনা দিচ্ছেন, তারা আসলে দলের ভেতরে গুটিকয়েক স্বার্থান্বেষী মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। এদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে তৃণমূলের হতাশা আরও বাড়বে এবং দলের ঐক্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনার পর নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ নেতা-কর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে সোহেল শিকদার ও বাহাদুর খানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তৃণমূলের দাবি, দ্রুত এদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে বিএনপির বাকেরগঞ্জ অঞ্চলে সাংগঠনিক ভিত্তি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে।