কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ১৫:১৮ পিএম
আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ২০:১২ পিএম
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে মাত্র ১৬ শতক জমির বিরোধ ও দখলকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও আটজন। রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাইলাটারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেনÑ আলতাফ হোসেন (৫৫), এরশাদুল হক (৩৫) ও কুলসুম বেগম (৫০)। ঘটনাস্থল থেকে নিহত আলতাফের ছেলে মোফাজ্জল হোসেনকে (২৪) আটক করেছে পুলিশ। আহতরা হলেনÑমানিক মুন্সি (৬০), নূর মোহাম্মদ, নিহত এরশাদের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম (৩৫), জোবায়দুর (৪৫), সফিকুল ইসলাম (২৫), মর্জিনা বেগম (৪২), আজিজার রহমান (৪০) ও পারুল বেগম (৩২)। তাদের কুড়িগ্রাম ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে হাইলাটারী গ্রামের মানিক মুন্সী, নূর মোহাম্মদ এবং তাদের চাচাত ভাই আলতাফ হোসেন ও আজিজার রহমান যৌথভাবে ১৬ শতক জমি কেনার জন্য মালিককে টাকা দেন। কিন্তু কোনো পক্ষই জমির দলিল করেননি। পরে জমিটি দখলে নেন মানিক মুন্সি ও নূর মোহাম্মদ। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। গতকাল রবিবার সকাল ১১টার দিকে আলতাফ ও আজিজারের লোকজন জমি দখলে করতে চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষ একে–অন্যের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান এরশাদুল হক ও তার বোন কুলসুম বেগম। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান আলতাফ হোসেন।
নিহত কুলসুম বেগমের ভাই ও এরশাদ আলীর বাবা মানিক মুন্সি বলেন, ১৬ শতক জমি নিয়ে তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল। এরই জেরে রবিবার সকাল ১১টায় প্রতিপক্ষরা লাঠি-সোঠা ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই আমার ছেলে এরশাদুল হক ও বোন কুলসুম বেগম মারা যান। আমি প্রশাসনের কাছে উপযুক্ত বিচার চাই। তবে, নিহত আলতাফ হোসেনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কাউকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সন্তোষপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন নাকু বলেন, ওই পরিবার দু'টিতে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমার বিরোধ ছিল। এরই জেরে রবিবার সংঘর্ষে উভয়পক্ষের তিনজন নিহত হয়েছেন।
নাগেশ্বরী থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এ বিষয়ে কথা হলে কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি বলেন, এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে। পুলিশের তৎপরতা আঁচ করতে পেয়ে অপরাধীরা গা ঢাকা দিয়েছেন। খুনিরা যেখানেই থাকুক তাদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।