লালমনিরহাট
নিয়ন দুলাল, লালমনিরহাট
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ০৯:২৪ এএম
লালমনিরহাট রেলস্টেশনের ১ নম্বর প্লাটফর্মে ফুটওভার ব্রিজের সিঁড়ি না থাকায় প্রতিদিন ভোগান্তি ও ঝুঁকিতে পড়ছেন যাত্রীরা। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্মটি প্রায় চার বছর আগে চার ফুট উঁচু করা হলেও এখনও সেখানে সিঁড়ি নির্মাণ করেনি রেল কর্তৃপক্ষ।
স্টেশনের অন্যান্য চারটি প্লাটফর্মে সিঁড়ি থাকলেও এক নম্বর প্লাটফর্মটি এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অথচ যাত্রী চলাচল সবচেয়ে বেশি এই প্লাটফর্ম দিয়েই। কারণ এখানেই রয়েছে টিকিট কাউন্টার। উঁচু প্লাটফর্মে ওঠানামা করতে গিয়ে প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা বেশি বিপাকে পড়ছেন।
থানাপাড়া এলাকার অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা সুপেন দত্ত বলেন, উঁচু প্লাটফর্মে উঠতে গিয়ে পড়ে হাত ভেঙে যায়। ছয় মাস চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছি। প্রতিদিনই অসংখ্য যাত্রী একইভাবে আহত হচ্ছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কুলাঘাটের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, ওঠানামার সময় পড়ে তার পা ভেঙে যায়। এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
নারী যাত্রী মনোয়ারা বেগম বলেন, পুরুষরা হয়তো কোনোভাবে উঠতে পারেন কিন্তু আমাদের জন্য এটি ভয়ংকর ঝুঁকির। সিঁড়ি থাকলে ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে নিরাপদে যাতায়াত করা যেত।
যাত্রী শামসুল ইসলাম জানান, আমার বৃদ্ধ মাকে পিঠে করে প্লাটফর্ম থেকে নামাতে হয়েছে। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর এবং ঝুঁকিপূর্ণ।
স্টেশনে দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্য মজিবর রহমান বলেন, আমি নিজেও এক বছরে চারবার পড়ে আহত হয়েছি। প্রতিদিনই যাত্রীরা এখানে দুর্ঘটনার শিকার হন।
স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ নুরন্নবী বলেন, আমিও একাধিকবার পড়ে আহত হয়েছি। বিষয়টি বহুবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কেন এখনও সিঁড়ি হয়নি তা বলতে পারছি না।
তিনি আরও জানান, প্রতিদিন ১৬ জোড়া ট্রেন স্টেশনটিতে আসে-যায়। কয়েক হাজার যাত্রী প্রতিদিন এক নম্বর প্লাটফর্মে ওঠানামা করেন।
লালমনিরহাট রেলওয়ের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রতিদিনই দুর্ঘটনার খবর পাচ্ছি। বারবার ব্রিজ বিভাগকে পত্র দেওয়া হলেও এখনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আবারও যোগাযোগ করা হচ্ছে।
লালমনিরহাট রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী শিপন আলী বলেন, আমিও নিজে যাত্রীদের ভোগান্তি দেখেছি। সিঁড়ি নির্মাণের দায়িত্ব সেতু বিভাগের। তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, আশা করছি দ্রুতই প্রকল্প নেওয়া হবে।
রেলওয়ে সেতু বিভাগের প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়েছে। অনুমোদন ও বরাদ্দ মিললেই দ্রুত কাজ শুরু হবে।
যাত্রীরা বলছেন, একটি সিঁড়ি নির্মাণে বড় ব্যয় বা দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয় না। শুধু দায়িত্বশীল উদ্যোগই পারে ঝুঁকিপূর্ণ এই ভোগান্তির স্থায়ী সমাধান করতে।