শ্যামাসুন্দরী খাল
মেরিনা লাভলী, রংপুর
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ১০:০২ এএম
পানিপ্রবাহ নিশ্চিত না হলে শ্যামাসুন্দরীতে উন্নয়ন কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে সুফল দেবে না বলে মত নদী গবেষকদের। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো
রংপুর নগরীর শ্যামাসুন্দরী খালটি পুনঃখনন করা হয়েছিল ১৩৫ বছর আগে। উদ্দেশ্য ছিল জলাবদ্ধতা ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ থেকে নগরবাসীকে বাঁচাতে। কিন্তু কালের বিবর্তনে এ খালের নামের সঙ্গে যুক্ত সুন্দরীর যথার্থতা আর নেই। শ্যামাসুন্দরী খালের প্রাণ ফেরাতে ‘দখল-দূষণ রোধ, পুনরুদ্ধার ও পুনরুজ্জীবিতকরণ’ কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল অংশীজনরা। গত ৫ বছরেও সেটি আলোর মুখে দেখেনি। পানিপ্রবাহ নিশ্চিত না হলে শ্যামাসুন্দরীতে উন্নয়ন কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে সুফল দেবে না বলে মত নদী গবেষকদের।
সরেজমিন দেখা যায়, নগরীর কেলাবন্দ বিসিক শিল্পনগরীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘাঘট নদীর সঙ্গে যুক্ত শ্যামাসুন্দরী খাল। তিস্তায় ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের আগে ঘাঘট নদীতে পর্যাপ্ত পানি থাকায় সেই পানি বয়ে যেত শ্যামাসুন্দরী খাল দিয়ে। সেই পানির চাপে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে ড্রেনের মাধ্যমে শ্যামাসুন্দরী খালে পড়া পানি ১৫ দশমিক ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘপথ বয়ে যেত খোকসা ঘাঘটে। বর্তমানে শ্যামাসুন্দরী খালের চেয়ে ঘাঘট নদীর পানির পৃষ্ঠ কয়েক ফুট নিচে। ফলে শ্যামাসুন্দরী খাল প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া পানির উৎস হারিয়েছে। পানির চাপ না থাকায় শ্যামাসুন্দরী খালে নগরীর দূষিত পানি আটকে দুর্গন্ধ ছড়ানোসহ মশা-মাছি উৎপাদনের কারখানায় পরিণত করেছে। অপরদিকে নগরায়ণে খালের পাশ দিয়ে বহু অট্টালিকা, আবাসিক ভবন, হোটেল-রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে। এসব বেশিরভাগ ভবনের ময়লা-আবর্জনা ডাস্টবিনে না ফেলে শ্যামাসুন্দরী খালে ফেলা হচ্ছে। সেই সঙ্গে পয়ঃনিষ্কাশন ও ব্যবহৃত পানি পাইপের মাধ্যমে শ্যামাসুন্দরী খালে সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
নদী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ জানান, শ্যামাসুন্দরীর দুর্গতির অন্যতম কারণ ঘাঘট নদীতে পানি না থাকা। নীলফামারী জলঢাকার আলসিয়াপাড়া এলাকায় তিস্তা নদীর সাথে ঘাঘট নদীর যে সংযোগ তা বন্ধ করে দেওয়া। এতে করে তিস্তার পানি আসছে না ঘাঘট নদীতে। পানি না থাকায় ঘাঘট নদীও শ্যামাসুন্দরীতে প্রাণের সঞ্চার ঘটাতে পারছে না।
তিনি বলেন, প্রাকৃতিক প্রবাহ ছাড়া কৃত্রিমভাবে শ্যামাসুন্দরী খালে পানি প্রবাহের উপায় নেই। সেই সঙ্গে নদী থেকে পানি উত্তোলন করে তা শ্যামাসুন্দরী খালে অব্যহতভাবে দেওয়া সম্ভব নয়। অপরদিকে শ্যামাসুন্দরী খালে ডাস্টবিনের মতো ময়লা ফেলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রেনের সংযোগ এ খালে থাকায় প্রতিদিন প্রচুর বর্জ্য পড়ে ভরাট হচ্ছে এ খালটি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, ঘাঘট নদীর পানি শ্যামাসুন্দরী খালের উচ্চতার চেয়ে নিচে থাকায় এতে পানি প্রবাহিত হচ্ছে না। পাম্পিং করে শ্যামাসুন্দরী খালে পানির প্রবাহ বাড়ানো যেতে পারে। এছাড়া সিটি করপোরেশন এলাকায় আলাদা ড্রেন নির্মাণ করার মতো জায়গা না থাকায়, সেটিও বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে খালের ময়লা-আবর্জনা অপসারণের কাজ দ্রুত শুরু হবে। টেন্ডারের পর এ কাজের ঠিকাদার নিয়োগ হয়ে গেছে। এটি হলে শ্যামাসুন্দরী খালে পানির কিছুটা প্রবাহ নিশ্চিত হবে।