মৌলভীবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২৫ ২০:৩০ পিএম
আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৫ ২০:৪৪ পিএম
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৩ নম্বর শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের ইছবপুর ও নোয়াগাঁও গ্রামের লোকালয় থেকে গত ৬ দিনে ৪টি বিশালাকার অজগর সাপ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন।
এসব সাপ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকাজুড়ে সাধারণ মানুষের মনে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। সর্বশেষ শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকালে উপজেলার ৩ নম্বর শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের ফকিরবাড়ী সংলগ্ন ধানের জমিতে কৃষকরা ধান কাটার সময় হঠাৎ একটি অজগর সাপ দেখে আতঙ্কিত হয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।
বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানানো হলে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ এবং পরিবেশকর্মী রিদন গৌড় ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর সাপটিকে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে একই ইউনিয়নের ইছবপুর গ্রামে ঝোপঝাড় পরিষ্কার করার সময় শ্রমিকরা একটি বাড়ির সীমানা প্রাচীরের ওপর একটি অজগর সাপ দেখতে পান। পরবর্তীতে ঘটনাটি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে ফোনে জানালে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটিকে উদ্ধার করেন।
২৪ নভেম্বর একই গ্রামে (ইছবপুর) অবস্থিত শ্রীমঙ্গল রেসিডেনসিয়াল মডেল গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকার ঝোপঝাড় পরিষ্কার করার সময় শ্রমিকরা হঠাৎ সীমানা প্রাচীরের ওপর একটি অজগর সাপ দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর অসিত কুমার পাল বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানালে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ এবং রিদন গৌড় অজগরটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
২৩ নভেম্বর নোয়াগাঁও গ্রামে বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন রাবার বিভাগ সিলেট জোন কার্যালয়ের পাশে বুধু বাবুর জমিতে ধান কাটার সময় শ্রমিকেরা হঠাৎ একটি অজগর সাপ দেখতে পান। পরে বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানালে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অক্ষত অবস্থার একটি অজগর সাপটিকে উদ্ধার করেন। ৬ দিনে উদ্ধারকৃত ৪টি সাপ বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, ‘গত ৬ দিনে পাশাপাশি দুটি গ্রাম থেকে চারটি বিশালাকার অজগর সাপ উদ্ধার করেছি। ধারণা করছি লাউয়াছড়া বনে খাদ্য সংকটের কারণে সাপগুলো লোকালয়ে চলে আসছে। এগুলো দেখে এলাকার মানুষ আতঙ্কিত অবস্থায় রয়েছে। অনেকেই তাদের ভয়ের কথা আমাদের জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে অজগর সাধারণত মানুষকে আক্রমণ করে না। তথাপিও সচেতন থাকা আবশ্যক।’
লাউয়াছড়া বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল হাসান গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন এলাকায় বারবার অজগর দেখা যাওয়াটা অবশ্যই উদ্বেগের। তবে এর পেছনে স্পষ্ট পরিবেশগত কারণ রয়েছে। প্রথমত, মানুষের বসবাস বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝোপঝাড়, জলাধার ও বনের প্রাকৃতিক আবাস ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। এর ফলে অজগরসহ অনেক বন্যপ্রাণী আশ্রয় ও নিরাপত্তার জন্য লোকালয়ে চলে আসছে। দ্বিতীয়ত, পার্শ্ববর্তী সংরক্ষিত বনাঞ্চল বিশেষ করে লাউয়াছড়াসহ অন্যান্য বনে অজগর সাপের খাদ্যের সংকট তৈরি।
বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা বলেন, ‘বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২-এর তফসিল-২ অনুযায়ী অজগর সাপ একটি সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী। এটি একটি নির্বিষ সাপ। এটি নিশাচর ও খুবই অলস প্রকৃতির। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া নড়াচড়াও করে না। এই প্রজাতিটি গাছে একাকী বাস করলেও শুধু প্রজননকালে জোড়া বাঁধে। এটির ক্ষতি বা সাপটিকে হত্যা করা রাষ্ট্রীয় আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।