রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৩১ পিএম
আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৩৬ পিএম
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে রাকিব ও হারুন নামে দুই দালালের মারামারিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই প্রাইভেট ল্যাব মালিকের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকাল ও দুপুরে দুই দফায় এ মারামারির ঘটনা ঘটে। এর জেরে করইতলা বাজার এলাকায় দিনভর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে উভয়পক্ষের সমর্থকরা ঘটনাস্থলে জড়ো হলে একাধিকবার হামলার সৃষ্টি হয়। এতে বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিকালে পুলিশ ও ল্যাব মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন করইতলা বাজারে ৯টি প্রাইভেট ল্যাব রয়েছে। এসব ল্যাবে নিয়োজিত দালালরা সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী হাতিয়ে নিতে প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। প্রায়ই তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব, সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। তারা দ্রুত এসব দালাল ও অবৈধ ল্যাব কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টার দিকে প্রতিদিনের মতো রোগী ভাগিয়ে নিতে হাসপাতালের মেইন গেটের ভেতরে সিগন্যাল গেটে অবস্থান করছিল হাই কেয়ার ল্যাবের রাকিব। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে উপস্থিত হয় ইনসাফ ল্যাবের হারুন। একপর্যায়ে তাদের দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও মারামারি হয়। সেই ঘটনার রেশ ধরে জুমার নামাজ পড়ে বের হলে হাইকেয়ার ল্যাবের মালিক জামালের ওপর হামলা করে ইনসাফ ল্যাবের মালিক মো. করিম। খবর পেয়ে দুই মালিকের অনুসারীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। দফায় দফায় তাদের মধ্যে উত্তেজনা হয়। পরে পুলিশ ও মালিক সমিতির নেতারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে।
ইনসাফ ল্যাবের মালিক আবদুল করিম হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, হাইকেয়ার ল্যাবের মালিক জামাল আমার বড় ভাই। মারামারির ঘটনাটি সত্যি নয়। কমলনগর ল্যাব মালিক সমিতির সভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন জানান, সমিতির পক্ষ থেকে বসে ঘটনাটি সমাধান করা হবে।
কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখনো কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।