মতলব উত্তর (চাঁদপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:২৯ পিএম
আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৪৮ পিএম
চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যে স্বপ্ন বুকে লালন করে আসছিলেন, ধনাগোদা নদীর ওপর সেই দৃষ্টিনন্দন ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের কাজ এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবায়নের খুব কাছাকাছি। ৪ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে যাওয়া এই ১.৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ কেবল স্টেইড সেতু হবে দেশের ইতিহাসে প্রথম এমন প্রকল্প, যেখানে নদীর মূল প্রবাহে একটিও পিলার থাকবে না।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকালে সেতু এলাকার ওপর আকাশপথে হেলিকপ্টার সার্ভে করেন কোরিয়ান ফান্ডিংয়ের প্রতিনিধি মিস্টার বিয়ন, মিস্টার পার্ক, মি. সিন এবং দোভাষী মো. বাবলু ভূঁইয়া। পরিদর্শন শেষে তারা হেলিকপ্টারটি অবতরণ করেন মতলব উত্তর উপজেলার কালিপুর বাজার সংলগ্ন মাঠে। সেখানে স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তারা প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে মতবিনিময় করেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত ও দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন। তিনি বলেন, এই সেতু শুধু মতলব নয় চাঁদপুর, মুন্সীগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালীসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা পাল্টে যাবে। এই সেতু দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে। শিল্পাঞ্চল, পর্যটন ও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। সেতু হলে মতলব-গজারিয়া অঞ্চল রাজধানীর সঙ্গে দ্রুত যুক্ত হবে।
এতে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কৃষকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ওবায়দুর রহমান টিপু, জেলা বিএনপির সহসভাপতি অধ্যাপক ডা. শামিম আহাম্মেদ, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি আজহারুল হক মুকুল, বিএনপি নেতা আনিছুর আউয়াল প্রমুখ। সভাটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মনজুর আমিন স্বপন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছেংগারচর পৌর বিএনপির সভাপতি নান্নু মিয়া প্রধান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদুজ্জামান টিপু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. শাহজালাল, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নুরুল হুদা ফয়েজী, সদস্য সচিব জয়নাল পাটোয়ারী পিনুসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সেতুটি নির্মিত হলে রাজধানীর সঙ্গে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও ভোলার সঙ্গে ঢাকার সরাসরি যাতায়াত সময় অর্ধেকে নেমে আসবে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চাপ কমবে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বাণিজ্য ও পর্যটনে বড় পরিবর্তন আসবে, জমির মূল্য বৃদ্ধি ও নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠবে, জিডিপিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি আসবে ।