চুয়াডাঙ্গা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:২০ পিএম
আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৩০ পিএম
কুমার নদের ওপর নির্মিত সেতুটি সংযোগ সড়ক না থাকায় নয় বছর ধরে অকার্যকর অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রবা ফটো
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমার নদের ওপর নির্মিত ৫৭ লাখ টাকার সেতুটি সংযোগ সড়ক না থাকায় নয় বছর ধরে অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের এ সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল কালিদাসপুর ইউনিয়নের আসাননগর ও বকশিপুর গ্রামের যাতায়াত সুবিধায়। কিন্তু দুই প্রান্তে রাস্তা না থাকায় সেতুটি আজও মানুষের কোনো কাজে আসছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কালভার্ট কর্মসূচির আওতায় সেতুটির কাজ শুরু হয় এবং ২০১৭ সালের জুনে প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়। কিন্তু সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত কাঠামোয় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে সেতুর ওপর শুকানো হচ্ছে গরুর গোবর—যা স্থানীয়দের ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটির দুই পাশে রাস্তা না থাকায় এলাকাবাসী এখনো ৫–১০ কিলোমিটার ঘুরে আলমডাঙ্গা শহরে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে ১০টি গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন ভোগান্তি বেড়েছে; ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক, বৃদ্ধাশ্রম, মাদরাসা, স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, সেতু আছে, কিন্তু রাস্তা নেই। ফসল মাঠ থেকে আনতে সমস্যা হয়, খরচও বেশি পড়ে।
আসাননগর গ্রামের বাবুল হোসেন বলেন, সংযোগ সড়ক থাকলে দুই পাশের মানুষের যাতায়াত সহজ হতো; এখন সেতুটি গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রকাশ নামে এক বাসিন্দা ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, মনে হচ্ছে ৫৭ লাখ টাকা খরচ করে গোবর শুকানোর জায়গা বানানো হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মৌদুদ আলম খাঁ জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব পেয়েছেন এবং বিষয়টি পূর্বে জানা ছিল না। তিনি বলেন, সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। দ্রুত সেতুটিকে চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রায় এক দশক ধরে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি স্থানীয়দের ভোগান্তির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—অতি দ্রুত সড়ক নির্মাণ করে সেতুটিকে কার্যকর করা হবে।