যশোর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৫২ পিএম
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে যশোর চুড়ামনকাটি আম বটতলায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা হলেনÑ আব্দুল আহাদ, সাব্বির আহমেদ, আবির হোসেন ও আলমগীর হোসেন ও এহসানুল হক জিসান। আহতরা সবাই যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, গত সোমবার সন্ধ্যায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিকেল বিভাগের এক ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে একটি দোকানে মোবাইল মেরামত করার জন্য যান। এ সময় দুজনের কথোপকথনের একপর্যায়ে মেকানিক মোনায়েম ওই ছাত্রীর সঙ্গে অশোভন ভাষায় কথা বলেন। ঘটনাটি জানতে পেরে কয়েকজন শিক্ষার্থী মোনায়েমের কাছে গিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ জানান। ঘটনার পরের দিন মঙ্গলবার ফের শিক্ষার্থীরা মোনায়েমকে মারধরের পর কান ধরে ওঠবস করান। এ সময়ে বাজারের অন্য ব্যবসায়ীরা ঘটনার কারণ জানা নিয়ে তর্কবিতর্ক হয় শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে। একপর্যায়ে ব্যবসায়ীরা বাজারের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে সাজিয়ালী, শ্যামনগর, দৌগাছিয়া গ্রামের লোকজন গিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া ও হামলা চালায়। পরে শিক্ষার্থীরাও গ্রামবাসীকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের সামনের রাস্তায় আগুন ধরিয়ে সড়ক অবরোধ করে। আর গ্রামবাসী আমবটতলা বাজারের এদিকে সড়কে ব্যারিকেড দেয়। এ সময় সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একের পর এক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আব্দুল মজিদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এখন শান্ত রয়েছে। এখানে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রয়েছে।