আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৪৯ পিএম
আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৫৩ পিএম
বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের গাছ কেটে বিক্রি
বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কুতুবপুর মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত কুকুয়াহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন ও তার ভাই আমিনুল ইসলাম বাঁধের প্রায় ৫০টির বেশি গাছ বিক্রি করেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের দাবি, গাছগুলো কাটায় বাধা দিলেও তারা তা উপেক্ষা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৫ সালে কুকুয়া গ্রামের পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করে। বাঁধের রিভার ও কাইন্টি সাইটে বোর্ডের প্রায় ২০০ ফুট জমি রয়েছে। ২০০০ সালে ওই জমিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড মেহগনি, চাম্বল ও শিশুসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করে। সম্প্রতি সহকারী শিক্ষক জসিম উদ্দিন ও তার ভাই আমিনুল ইসলাম ওই গাছগুলো ৮৫ হাজার টাকায় স্থানীয় গাছ ব্যবসায়ী বেল্লাল মিয়ার কাছে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত তিন দিন ধরে বেল্লাল মিয়া বাঁধের গাছ কেটে নিচ্ছেন।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) সরেজমিন দেখা যায়, কাটা গাছ স্তূপ আকারে রাখা হয়েছে এবং বেল্লাল মিয়া সেগুলো ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছেন।
গাছ ব্যবসায়ী বেল্লাল মিয়া বলেন, ‘জসিম মাস্টার ও তার ভাই আমার কাছে ৮৫ হাজার টাকায় গাছ বিক্রি করেছেন। গাছগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের কি না, তা আমি জানি না।’
অভিযুক্ত শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমার রেকর্ডীয় জমিতে রোপণকৃত গাছ আমি বিক্রি করেছি। এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো গাছ নেই।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যসহকারী মো. আলমগীর হোসেন বলেন, বোর্ডের জমির গাছ দুই ভাই বিক্রি করেছেন। আমরা বাধা দিলেও তারা শোনেননি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আজিজুর রহমান সুজন জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে রোপিত গাছ কাটা হয়েছে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হান্নান প্রধান বলেন, বাঁধের গাছ কেটে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।