গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ১৭:৪১ পিএম
আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ২০:৩০ পিএম
স্বল্পশিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের কর্মমুখী করতে পটুয়াখালী অঞ্চলে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘রিকভারি অ্যান্ড এডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট (রেইজ)’ প্রকল্পের আওতায় (ওস্তাদ–শাগরেদ) মডেল বাস্তবায়ন করছে সাউথ এশিয়া পার্টনারশিপ, বাংলাদেশ (স্যাপ, বাংলাদেশ)।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) এর অংশ হিসেবে সকাল থেকে স্যাপ, বাংলাদেশের গলাচিপা এরিয়া অফিস চত্বরে ওস্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে মাস্টার ক্রাফটসপার্সন ওরিয়েন্টেশনের মধ্যে দিয়ে দু’দিনব্যাপী ট্রেনিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যেখানে দুইটি ব্যাচে ৪০ জন ওস্তাদ প্রশিক্ষণে অংশ নেন।
প্রশিক্ষণ-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় তরুণ ছোট উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ব্যবসা ব্যবস্থাপনা, উদ্যোগ উন্নয়ন এবং বিভিন্ন ট্রেডের বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ পরিচালনার বিষয়ে দক্ষ করে তোলা হচ্ছে। বিশেষভাবে এই দু’দিন প্রশিক্ষণে পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতি, কারিগরি কোর্স ব্যবস্থাপনা, ক্লাস পরিচালনা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া বিষয়ে হাতে-কলমে ওস্তাদদের অভিজ্ঞতা দেওয়া হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই, আগামী ছয় মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেওয়া আগ্রহী বেকার তরুণ-তরুণীদের সফলভাবে কর্মমুখী দক্ষতাসম্পন্ন করে তোলাÑ যাতে তারা চাকরি অথবা আত্মকর্মসংস্থানে এগিয়ে যেতে পারে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, ওস্তাদ প্রশিক্ষণ শেষে তাদের মাধ্যমে শাগরেদের সেলাই–দর্জি, বিউটি পার্লার, ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া, মোবাইল ফোন সার্ভিসিং, ইলেকট্রিশিয়ান, ফ্রিজ–এসি রিপেয়ারিং, বেকিং ও পেস্টিং প্রিপারেশনসহ বিভিন্ন বিষয়ে ছয় মাসের বিনামূল্যের কারিগরি প্রশিক্ষণ ক্লাস শুরু হবে। কোর্স শেষে সার্টিফিকেটের পাশাপাশি চাকরি সংস্থান, উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ এবং সহজ শর্তে ঋণ সুবিধাও দেওয়া হবে। অংশগ্রহণকারীদের জন্য রয়েছে যাতায়াত ভাতাও। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য সমাজের পিছিয়ে পড়া স্বল্প আয়ের বেকার তরুণ-তরুণী ও প্রতিবন্ধীদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি করে মজুরিভিত্তিক ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা। এ লক্ষ্যেই ‘গুরু-শিষ্য/ওস্তাদ–শাগরেদ’ মডেল চালু করে ৬ মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পটুয়াখালী অঞ্চলে ২০০ ওস্তাদ ও ৪০০ তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছেÑ যার মধ্যে ৩৫ শতাংশ নারী যাদের তথ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন বিষয়ে ২৬টি ট্রেডের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরবর্তী এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে।
ওস্তাদ প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া সাইমুন রহমান বলেন, এই ট্রেনিং আমাদের কাজকে আরও পেশাদার ও মানসম্পন্ন করবে। আমরা চাই, প্রতিটি তরুণ-তরুণী দক্ষ হয়ে যাতে নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে, শাহিনা আক্তার জানান, এ ধরনের প্রশিক্ষণ তাদের কাজে নতুন দিক উন্মোচন করবে এবং শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিতে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। ফলে আত্মকর্মসংস্থান বাড়বে।
প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বেকার তরুণ-তরুণীদের নতুন কর্মসংস্থানের পথ তৈরি হবে। স্যাপ, বাংলাদেশ ও পিকেএসএফ রেইজ প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকার দারিদ্র্যপীড়িত যুবসমাজকে দক্ষ করে তুলতে কাজ করছে। পটুয়াখালী অঞ্চলের গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, পটুয়াখালী সদর ও দশমিনা এ ৪টি উপজেলায় প্রকল্পের কাজ চলবে। আমরা আশা করব, এ অঞ্চলের সকল বেকার যুবক-যুবতী এ প্রশিক্ষণের আওতায় আসবে এবং কর্মসংস্থান গড়ে তুলবে। সকলকে দক্ষ হতে হবেÑ কারণ অদক্ষ জনশক্তি যেমন দেশের বোঝা, দক্ষ জনশক্তি তেমন দেশের সম্পদ।
স্থানীয়ভাবে আশা করা হচ্ছে, এই উদ্যোগ পটুয়াখালী অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে এবং বেকার তরুণ-তরুণীদের স্বপ্ন পূরণে নতুন দিগন্ত তৈরি করবে।