× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ধানের শীষের দুর্গে অস্বস্তিতে বিএনপি, ফুরফুরে জামায়াত

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ১৬:২৬ পিএম

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ১৬:৩৯ পিএম

ধানের শীষের দুর্গে অস্বস্তিতে  বিএনপি, ফুরফুরে জামায়াত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে রাজনীতি জমে উঠেছে। ধানের শীষের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এ আসনে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকায় চরম অস্বস্তিতে বিএনপি। আবার দলটির সঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলের প্রার্থীকেও ছেড়ে দেওয়া হতে পারে আসনটি। ফলে এ আসনে বিএনপির প্রার্থীরা ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছেন। অপরদিকে একক প্রার্থী দিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

সারা দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি ২৩৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তবে এ আসনে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। দলটির একাধিক প্রার্থী থাকলেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের আলোচনায় গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকীর নাম উঠে এসেছে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে। এ খবরে বিএনপির একটি বড় অংশ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা প্রতিবাদ সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে বহিরাগত প্রার্থী মনোনয়নের বিরোধিতা করছেন। আগামীকাল ২৬ নভেম্বর বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছে উপজেলা বিএনপি। তারা চান ধানের শীষের কাউকে যেন মনোনয়ন দেওয়া হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনটি ১৩ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। তিতাস, মেঘনা ও ঢোলভাঙা নদীবেষ্টিত এ আসনে সাড়ে তিন লক্ষাধিক ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে তরুণ ভোটার প্রায় ৩০ শতাংশ। তরুণ প্রজন্ম কর্মসংস্থান, উন্নয়ন ও পরিবর্তনের রাজনীতি চায়। আর এরাই গড়ে দেবে চূড়ান্তের বিজয়ের ভিত্তি।

সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতা-পরবর্তী ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. আবদুল হক আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন কুমিল্লা-৭ (বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। মোজাম্মেল হক অদুদ মিয়া ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন কুমিল্লা-৬ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন।

১৯৮৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদুর রহমান, ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী এটিএম ওয়ালী আশরাফ এবং ১৯৯১ সালের নির্বাচনেও বিএনপির এটিএম ওয়ালী আশরাফ বিজয়ী হন। ১৯৯৪ সালের ১৯ নভেম্বর ওয়ালী আশরাফের মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে বিএনপির শাহজাহান হাওলাদার (সুজন) এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনেও বিএনপির শাহজাহান হাওলাদার সুজন বিজয়ী হন।

২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে বিএনপির আব্দুল খালেক বিজয়ী হন। এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ক্যাপ্টেন (অব.) এবিএম তাজুল ইসলাম বিজয়ী হলেও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির আব্দুল খালেক। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তাজুল ইসলাম নির্বাচিত হলেও বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আব্দুল খালেক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী একাধিক। তাদের মধ্যে রয়েছেনÑ সাবেক এমপি ও বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য এমএ খালেক পিএসসি, নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক সিকদার, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান পলাশ, অ্যাডভোকেট জিয়া উদ্দিন, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি সাইদুজ্জামান কামাল।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকীও এই আসন থেকে নির্বাচন করতে চান। বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতায় জোটের প্রার্থী হিসেবে তিনি মনোনয়ন পাবেনÑ এমনটাই দাবি করছেন তার দলের নেতাকর্মীরা। মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর অনুসারী জুনায়েদ সাকী বাঞ্ছারামপুরের চরলহনিয়া গ্রামের সন্তান।

রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জনÑ বিএনপি আগামী নির্বাচনে ‘কৌশলগত প্রার্থী’ হিসেবে তাকে মনোনয়ন দিতে পারে। তবে বিএনপির একটি অংশ মনে করছে, এতে অভ্যন্তরীণ বিভাজন আরও গভীর হবে এবং সেই সুযোগে জামায়াত মাঠ দখল করে নিতে পারে। আসনটি ঐতিহ্যগতভাবে ধানের শীষের ঘাঁটি। তবে জামায়াত অত্যন্ত কৌশলে মাঠে নেমে শক্তিশালী অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছে। ’৯৬ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নকিবুল হুদা এবারও দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। তার বাড়ি মানিকপুর ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামে। ফলে বাঞ্ছারামপুরের পশ্চিমাঞ্চলের মানিকপুর, বাঞ্ছারামপুর উত্তর, আইপুর ও সোনারামপুর ইউনিয়ন ইতোমধ্যে জামায়াতের প্রভাববলয়ে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, জামায়াত এখন শুধু ধর্মভিত্তিক সংগঠন নয়, ভোটের মাঠে সংগঠিত রাজনৈতিক শক্তি। কয়েকটি ইউনিয়নকেও বলা হচ্ছে ‘জামায়াতের ঘাঁটি’, যেখানে তারা প্রতিটি পরিবারে যোগাযোগ স্থাপন করে তৃণমূল পর্যায়ে নীরব প্রচারণা চালাচ্ছে।

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী বাঞ্ছরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ বলেন, ‘বাঞ্ছারামপুর বিএনপির দুর্গ। এখানে গণসংহতি আন্দোলনের কাউকে মনোনয়ন দিলে তিনি ভালো করতে পারবেন না। এলাকার মানুষ তা মেনে নেবে না। দল আমাদের এলাকায় কাজ করার জন্য বলেছে, আমরা কাজ করছি। আগামীকাল ২৬ নভেম্বর বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।’

তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছর এলাকার বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর মামলা-হামলা হয়েছে। সেই দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সহযোগিতা করেছি। দল সেটা বিবেচনা করবে এবং আমাকে প্রার্থী করবে।’

সাবেক এমপি এমএ খালেক বলেন, ‘আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সৈনিক। ২০০১ সালে বাঞ্ছারামপুর থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়ন করেছি। ২০০৮ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছি। আওয়ামী লীগের রাতের ভোটের কারণে পরাজিত হয়েও জনগণকে ছেড়ে যাইনি। দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, মামলা-হামলার শিকার হয়েছি। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছি, কেউ দল ছেড়ে যায়নি। এলাকার মানুষের দাবি, বিএনপির কাউকে মনোনয়ন দিলে ধানের শীষ বিজয়ী হবে। যেহেতু বিএনপি করি, দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষেই কাজ করব।’

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও শিক্ষানুরাগী রফিক সিকদার বলেন, ‘আমি এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছি। দীর্ঘ ৪০ বছর বিএনপির রাজনীতি করি। দীর্ঘ ১৭ বছর বাঞ্ছারামপুরের মানুষ ধানের শীষে ভোট দিতে পারেনি। তারা ধানের শীষের প্রার্থী চান।’ দল তাকে মনোনয়ন দিলে বিজয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকীর বাঞ্ছারামপুরের সমন্বয়ক শামীম শিবলী বলেন, ‘জুনায়েদ সাকী এ আসন থেকে নির্বাচন করবেন। ধানের শীষ কাউকে না দিয়ে জুনায়েদ সাকীকে সমর্থন করবে বিএনপি।’

জামায়াতের প্রার্থী নকিবুল হুদা বলেন, ‘১৯৯৬ সালেও দলীয় মনোনয়নে নির্বাচন করেছি। এবারও দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। দীর্ঘদিন মাঠে থেকে মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থেকেছি, সংগঠনে সক্রিয় ছিলাম। তাই জনগণ আমাকে সমর্থন দেবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা