বেরোবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:২৭ পিএম
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা।
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) সিনিয়র জুনিয়র পরিচয়ের নাম করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল" বিজয় ২৪" হলের ছাদে নিয়ে বাংলা বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের র্যাগিং করেন একই বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (২৩ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ২৪ হলে ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন—বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন, রাফি আহমেদ, মো. তামি,মেঘনাদ,আজিজুল,ফাহিম,মনিরুল,সাকিল,ফরহাদ।
১৭তম ব্যাচের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মিজান,তানজিম,আশরাফ অভিযোগ করেন,বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকে অমানবিক - মানসিক চাপের মধ্যে রাখেন ১৬তম ব্যাচের সিনিয়ররা।
আজিজ, মামুন,রাফি, মেঘনাদ ভাইয়েরা মুখের ভাষা খারাপ করে গালাগালি করে।অশালীন ভাষা ব্যবহার করে।এর আগে ডিপার্টমেন্ট প্রধানকে জানানো হয়।তিনি জানার পর দেড় মাস ডাকাডাকি বন্ধ থাকে।তখন তারা আমাদের বয়কট করে বলে জানান।সেই সময়টা আসলে নাটক ছিল,তখন পরীক্ষা চলার কারণে ডাকতে পারেনি। হঠাৎ আবারও ডাকা শুরু করেন।
গতদিনের ঘটনায় ছাদে ডেকে র্যাগিং করার বিষয়ে বলেন, ১৬তম ব্যাচের সিনিয়ররা। গতকাল সন্ধ্যায় আমাদের সিআর( ক্লাস রিপ্রেজেনটেটিভ) ফোন দিয়ে ব্যাডমিন্টন কোর্টে আসতে বলেন।সেখানে কিছুক্ষণ বকাবকি করে বিজয় ২৪ হলের ছাদে নিয়ে আসে।ছাদে নিয়ে এসে খারাপ ভাষায় বকাবকি করে,অকথ্য ভাষা ব্যবহার করেন ( শব্দগুলো আমরা মুখে নিতে পারব না)।
মনোযোগ দিয়ে শুনি না,এগুলো শুনতে শুনতে অভ্যস্থ হয়ে গেছিলাম ফাও প্যাচাল।
মামুন,মেঘনাদ ভাই ছাদে কিছুক্ষণ বকাবকি করে দূরে চলে যায়,আমাদের লাইনে দাড় করায় মামুন ভাই আবার এসে দ্বীনকে দাড় করা এবং বকাবকি করে। মামুন ভাই দ্বীনকে বলে তোকে মারলে কি হবে এই বলে থাপ্পড় মেরে দেয়।মেরে বলে তোদেরকে কথা দিয়ে হচ্ছে না আর।
তারা আরও বলেন, দ্বীনকে মারার কারণ হচ্ছে, লাস্ট যেইবার ডাকে সেই সময় ডাকলে দ্বীন আসে নাই যার কারনে দ্বীনের উপর মামুন ভাই রেগে যায়।আর দ্বীন সব সময় আসে না।ওই লাইব্রেরিতে থাকে,নয়তো তার জেলার সিনিয়র ভাইয়ের সঙ্গে থাকে।
দ্বীন ইসলামকে থাপ্পড় মারার বিষয়ে সহপাঠিরা আরও বলেন, মামুন, মেঘনাদ সহ ৩ / ৪ জন যারা সব সময় অশালীন আচারন করে।
দ্বীন ইসলামকে থাপ্পড় মারার পর চিৎকার করে কান্না করলে হলে থাকা কিছু শিক্ষার্থী ছাদে গিয়ে দেখতে পারেন কয়েকজন শিক্ষার্থীকে।
সেখানে গিয়ে দেখেন দ্বীনকে শান্ত করার চেষ্টা করছে।কান্নায় ভেঙে পড়েন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী। তিনি বলতে থাকেন আমি কানে কিছু শুনতে পারছি না।কানে আমাকে থাপ্পড় মারা হয়েছে। আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান।
মারার বিষয়ে উদ্ধারকারীরা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন আমাদের কোনো কারণ ছাড়াই সিনিয়ররা র্যাগিং দেয়।
ভুক্তভোগী ১৭তম ব্যাচের সিআর বলেন,আমাকে চাপ দেয় তাদের কাছে ১৭তম ব্যাচের সবাইকে নিয়ে আসতে।আমি আসতে চাই না।
থাপ্পড় মারার বিষয়ে উদ্ধারকারীরা মামুনকে জিজ্ঞেস করেন কেন তাকে মারা হলো,তিনি বলেন তাকে ওই ভাবে কিছু করা হয়নি।তাকে ওইভাবে হাত তুলি নাই,যেভাবে বলতেছে সেটা বেশি বলতেছে।আমি জাস্ট গায়ে একটু হাত দিছি।
অভিযুক্ত ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য একাধিক বার ফোন করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
১৭ তম ব্যাচের ভুক্তভোগীরা বলেন,দ্বীনকে আমাদের সামনে কানে থাপ্পড় মারা হয়েছে।
দ্বীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে জানান,আমি কানে কিছু শুনতে পারতেছি না।রিপোর্ট করার জন্য মেডিকেল আসছি।
র্যাগিং এর বিষয়টি নিয়ে বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিন সদস্যদের তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি,এই বিষয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে আমি কিছু বলতে পারব না। আমার বলা যাবে না।
তদন্ত কমিটিতে তিন সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন,বিজয় ২৪ হলের সহকারী প্রভোস্ট তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ড.এটি.এম জিন্নাতুল বাসার, সদস্য সাইফুদ্দীন খালেদ,এবং আরেকজন সদস্য আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মোঃ ফায়সাল-ই-আলম।
র্যাগিং এর বিষয়ে বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. শফিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,এই ঘটনাটি যেহেতু হলে ঘটেছে এটি তারা দেখবে।শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ও প্রভোস্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।