সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ১৪:১৫ পিএম
ফরিদপুরের সদরপুরে সম্প্রতি উপজেলায় মন্দিরের জমিসংক্রান্ত সংঘর্ষের ঘটনার পর হিন্দু পরিবার পালিয়ে যাচ্ছে বলে একটি গুজব অনলাইন নিউজ পোর্টালে এবং ফেসবুকে প্রকাশিত হয়। তবে ফরিদপুর জেলা পুলিশ একে নিতান্তই গুজব ও অপপ্রচার বলে জানিয়েছে।
ওই নিউজ পোর্টালটি ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালীর হরিনা গ্রামে একটি মন্দিরের জমিসংক্রান্ত বিরোধের সংবাদকে বিকৃত করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনটির শিরোনাম করা হয়- ‘সদরপুরে মন্দিরের জমি নিয়ে সংঘর্ষÑ পালিয়ে যাচ্ছে হিন্দু পরিবার, টহলে পুলিশ’ শিরোনামটির স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে উদ্বেগ বাড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ‘হামলার পর ভয়-আতঙ্কে গ্রাম ছাড়ছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা’। এটা বলে সংবাদ মাধ্যমটি এলাকায় একটি আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। যা প্রশাসন এবং এলাকাবাসী গুজব বলে জানান।
রবিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে ওই পোর্টালে প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা হলে তারা জানায়- ওই পোর্টালের প্রতিবেদনটি অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর। বিরোধটি কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক নয়; কারণ উভয়পক্ষেই সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন রয়েছে। প্রতিবেদনে যেভাবে একক ধর্মীয় গোষ্ঠীর ওপর হামলা দেখানো হয়েছে, তা ঘটনা অনুযায়ী সঠিক নয়।
রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফরিদপুর জেলা পুলিশের দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- সদরপুরে মন্দিরের জমি নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের দেওয়ানি মামলা চলমান। উভয়পক্ষেই সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন রয়েছে। সম্প্রতি দুই পক্ষের কথাকাটাকাটির জেরে সীমিত আকারের একটি বাগবিতণ্ডের ঘটনা ঘটে। এটি ‘সাম্প্রদায়িক হামলা’ বা ‘হিন্দু পরিবার পালিয়ে যাচ্ছে’ এ ধরনের দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
হিন্দু পরিবার পালিয়ে যাওয়া’র বিষয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীর একাংশ জানায়, জমির মালিকানা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কয়েক মাস ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধ থেকেই (১৬ নভেম্বর) ভোরে কিছু উত্তেজনা দেখা যায়। তবে, তারা বলছেন, এটি ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ নয়।
স্থানীয় পূজারী বিমল ভট্টাচার্য বলেন, আমরা বহু বছর ধরে এখানে হিন্দু-মুসলমান একসঙ্গে বাস করছি। ঝগড়া হয়েছে জমি নিয়ে, ধর্ম নিয়ে নয়। আর পালিয়ে যাওয়ার বিষয় পুরোটাই গুজব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা জানান, জমির মালিকানা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কয়েক মাস ধরে তর্কবিতর্ক চলে আসছে। উভয়পক্ষেই সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন রয়েছে। কিছু মহল গুজব ছড়িয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও স্বাভাবিক রয়েছে এলাকায়। এলাকাবাসীকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছন নির্বাহী কর্মকর্তা।
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় জানান, হরিনা মৌজার জমিসংক্রান্ত বিরোধটি সম্পূর্ণই দুই পক্ষের মালিকানাসংক্রান্ত বিষয়। এটি কোনো সাম্প্রদায়িক ঘটনা নয়। উভয়পক্ষই মুসলিম ও সনাতন ধর্মাবলম্বী- দুই সম্প্রদায়ের মানুষ জড়িত আছেন এখানে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষ বা গণপলায়নের ঘটনা ঘটেনি।