× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কফি চাষ

আড়াই হাজার ফুট উচ্চতায় ভাগ্য বদলের স্বপ্ন

সুফল চাকমা, বান্দরবান

প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ১২:০৯ পিএম

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ১৬:৫৭ পিএম

চিম্বুক পাহাড়ে বাগান থেকে পাকা কফি চেরী সংগ্রহ করছেন দুই ম্রো নারী। সোমবারে তোলা।

চিম্বুক পাহাড়ে বাগান থেকে পাকা কফি চেরী সংগ্রহ করছেন দুই ম্রো নারী। সোমবারে তোলা।

এক সময় কফি পান ছিল শহরের আভিজাত্য মহলের অভ্যাস। সময়ের সাথে দেশে কফির জনপ্রিয়তা বেড়েছে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত। এই বাড়তি চাহিদাকে হাতিয়ার করে নিজেদের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ের জুম চাষীরা।

পার্বত্য চট্টগ্রামে এক সময় ৯০ শতাংশ পাহাড়ি মানুষ ছিলেন জুম চাষের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জমির উর্বরতা হ্রাস, ফলন কমে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে তারা ধীরে ধীরে ম্রিশ ফলদ বাগানের দিকে ঝুঁকছেন। মিশ্র ফলদ বাগানের সাথী ফসল হিসেবে এখন কফি চাষকেই বেছে নিচ্ছেন তারা।

চাষীদের ভাষ্য- কফি চাষের জন্য আলাদা জমির প্রয়োজন পড়ে না, সিন্ডিকেটের ঝামেলা নেই, রোগবালাই কম এবং বাজারজাত করন সহজ- এই সব কারনেই কফি চাষ তাদের কাছে লাভজনক হয়ে উঠেছে।

বিশ্বে নানা জাতের কফি থাকলেও বান্দরবানে আ্যারাবিকা, রোবাস্টা এবং উচ্চফলনশীল চন্দ্রাগীরি কফির চাষ হচ্ছে। আ্যারাবিকা ও রোবাস্টার তুলনায় বেশি ফলন হওয়ায় চন্দ্রাগীরির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে চাষীদের।

জেলা শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে আড়াই হাজার ফুট উচ্চতায় চিম্বুক পাহাড়ে গিয়ে সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়- তারাছা ইউনিয়নের বাবু পাড়া এলাকায়  আম, জাম্বুরা, ড্রাগন, লিচুর পাশাপাশি কফির বাগান। লাল-সবুজ কফি চেরীতে ঝুলছে পাহাড়ের বাগানগুলো। 


বর্তমানে নর্দান অ্যান্ড কফিরোস্ট কোম্পানি চাষীদের কাছ থেকে প্রতি কেজি পাকা কফি চেরি ২০০ টাকা দরে কিনছে। 

কফি চাষী জংরাও ম্রো জানান, তার বাপ-দাদারা একসময় শুধু জুম চাষ করতেন। কিন্তু দিন দিন মাটির উর্বরতা কমে যাওয়ায় এখন কফিই তাদের ভরসা। বর্তমানে তার বাগানে ৫০০০ কফি গাছ আছে, তার মধ্যে ২০০০ গাছে ফলন ধরেছে। গত বছর তিনি ১৫০০ কেজি কফি বিক্রি করে দুই লাখ পঞ্চান্ন হাজার টাকা আয় করেছেন। এবার ২০০০ কেজি বিক্রির আশা করছেন, যার বাজার মূল্য হবে প্রায় ৪ লাখ টাকা।

বাবু পাড়ার কফি চাষী চামলেং ম্রো জানান, তিনজন নারী শ্রমিক নিয়ে পাকানচেরী সংগ্রহ করছেন। গত বছর কফি বিক্রি করে তিনি দেড় লাখ টাকা লাভ পেয়েছেন। আগের তুলনায় পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে।

ইয়োং চং ম্রো জানান, জুমের ফলন আগের মতো হয়না, জুম চাষে লাভবান না হওয়ার কারনে মিশ্র ফলদ গাছের নীচে ৪ বছর আগে ৬০০ কফি গাছ লাগিয়েছিলেন। গত বছর থেকে ফলন দেওয়া শুরু করেছে। গত বছর ৮০০ কেজি কফি প্রতি কেজি ১৭০ টাকা দরে বিক্রি করে ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা আয় করেছেন। এবছর ১০০০ কেজি বিক্রি করে ২ লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন।

কফি চাষ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ তৈদু রাম ত্রিপুরা জানান, তিনি প্রায় ১৭ বছর ধরে কফি নিয়ে কাজ করছেন। দেশে বিদেশে কফি চাষ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এখন স্থানীয় চাষীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিচ্ছেন। দেশে কফির উৎপাদন কম হওয়ায় বিদেশ থেকে এখনো কফি আমদানি করতে হয়। তবে বান্দরবানের কফির চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষীদের। 

চন্দ্রাগীরি কফি সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি অ্যারাবিকা ভ্যারাইটি, উচ্চফলনশীল এবং চারা লাগানোর তিন বছরের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। তাই এই জাতের প্রতি চাষীদের আগ্রহ বেশি।


বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবানে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ৪৩৬ হেক্টর জমিতে কফি উৎপাদন হয়েছিল ৪১ টন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪৯৩.৬১ হেক্টরে উৎপাদন ৫৪.৭৯ টন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫৪৪ হেক্টরে উৎপাদন বেড়ে হয়েছে ১২২.০৬ টন। 

চাষে উৎপাদনের  নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যমাত্রা না থাকলেও উৎপাদন বাড়াতে কফি চাষীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ।

বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন জানান, কফি ও কাজুবাদাম চাষে বান্দরবান অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। শুরুতে ৫৮৬ জন কৃষক কফি চাষে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৯৩০ জনে, মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কফি চাষীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করেন বলে জানান এই কৃষিবিদ।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা