চুয়াডাঙ্গা
রেজাউল করিম লিটন, চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৩৮ এএম
চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলায় সার বিতরণে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে কৃষক তাদের প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। এতে তারা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারদের সিন্ডিকেট এবং প্রশাসনের পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবই এই সংকটের মূল কারণ।
কৃষকদের দাবি, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। কৃষকরা তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সার কেনার যে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় কৃষক জহিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘কৃষক বেশি সার কিনে বেশি ব্যবহার করছে, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা শুধু প্রয়োজন মতোই সার ব্যবহার করি। এমনিতেই ডিলাররা বেশি দাম দাবি করে। আমাদের পক্ষে এই দামেই সার কেনা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা বেশি সার কেমনে নেব।’
আরেক কৃষক প্রশ্ন তোলেন, ‘ক্ষেতের জন্য যতটুকু দরকার ততটুকুই পাই না। বেশি পাব কোত্থেকে।’ উনারা বলেন, ‘মাছ চাষিরা নাকি সার বেশি নিয়া যায়। মাছরে বেশি খাওয়ায়ে মাছ মারব নাকি। এইগুলা সব বানানি কথা।’
অন্যদিকে স্থানীয় ডিলার এবং সচেতন মহল এই সংকটের জন্য টিএসপি ও ডিএপি সারের কম বরাদ্দ থাকাকে আংশিকভাবে দায়ী করেছেন। তাদের মতে, তামাক ও মাছ চাষে সারের অতিরিক্ত ব্যবহারও সংকট বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এই অভিযোগের সপক্ষে সম্প্রতি একটি ঘটনা সামনে এসেছে। গত ৯ নভেম্বর, চুয়াডাঙ্গা সদর কৃষি অফিস থেকে বৈধ কাগজপত্রবিহীন ৪০০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়। অবৈধভাবে ব্যবসায়ীরা এই সার গুদামে নিয়ে যাচ্ছিলেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারে।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার জানান, জেলায় সারের কোনো সংকট নেই এবং ডিলারদের পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ করা হচ্ছে। তবে তারা স্বীকার করেন যে, ‘কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও খুচরা বিক্রেতা সারের বাজারে এই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করছে। কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি করছে, যাতে বেশি দামে বিক্রি করতে পারে।’
তিনি আরও জানান, ‘যারা সারের বাজারে কারসাজি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’