মুন্সীগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:০৭ পিএম
আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:২১ পিএম
মুন্সীগঞ্জ শহরের পিটিআই ইনস্টিটিউশনের পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষক রোমান মিয়াকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।
পুলিশ আহত অবস্থায় তাকে হেফাজতে নিয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি পরে সেনা মোতায়েন করা হয়। এ ঘটনায় স্কুল ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির পাশাপাশি পিটিআই সুপারিনটেন্ডেট আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেন।
স্থানীয়রা জানান, গত বৃহস্পতিবার স্কুল ছুটির পর শিক্ষক রোমান মিয়া ওই ছাত্রীকে বাথরুমে ডেকে নিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে হাত দিয়ে শ্লিলতাহানি করেন। বাড়ি ফিরে শিশুটি তার মাকে সব ঘটনা জানালে অভিভাবকরা বিষয়টি পিটিআই সুপারকে জানান।। সুপার এই ঘটনায় তাৎক্ষনিকভাবে কোন ব্যবস্থা না নিলে সাপ্তাহিক ছুটির পর রবিবার (২৩ নভেম্বর) স্কুল খোলার সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবক ও স্থানীয়রা ফুঁসে ওঠেন।
মুহূর্তে তারা বিদ্যালয় ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এই সময় তারা প্রতিষ্ঠানটির সুপারিনটেনডেন্টের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দেয়। সুপারের কার্যালয় ঘিরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। এরপর এলাকাবাসি ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র প্রতিনিধিরা আসলে এলাকাবাসী অভিযুক্ত শিক্ষকের উপর চড়াও। তারা শিক্ষককে পিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
একজন অভিভাবক শিমু বেগম বলেন, “আমরা আমাদের সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশে স্কুলে পাঠাই। শিক্ষকই যদি এমন অপরাধ করে, তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা থাকে কীভাবে?”
ঘটনা সম্পর্কে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফিরোজ কবির বলেন, “পিটিআইয়ের একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের খবর পেয়ে পুলিশ যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় । এরপর এই ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছে।
অভিভাবক ও স্থানীয়রা দাবি করেন—অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। নাইলে এই ধরণের ঘটনা আরও ঘটতে পারে।