নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:০৪ পিএম
আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:১০ পিএম
সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার এলেই পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নে দেখা যায় ব্যতিক্রমী এক দৃশ্য। দেখা যায় কারও হাতে কোদাল, কারও হাতে কুড়াল, কারও হাতে করাত কিংবা হাতুড়ি।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনটিতে তারা ছুটে আসেন যে যার কর্মস্থল থেকে। একটাই উদ্দেশ্য। নিজেদের গ্রামের ভাঙা সেতু-পুল ও ভাঙাচোরা রাস্তা নিজেরাই মেরামত করবেন।
প্রতি শুক্রবার ভোরে একই পোশাকে শুরু হয় তাদের কর্মযজ্ঞ। শুক্রবার মানেই সেচ্ছাশ্রমে চারদিক বদলে দেওয়া।
অবহেলিত বলদিয়ার বলদিয়া ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সবার আগে বলদিয়া’ ইতোমধ্যে নিজস্ব অর্থায়ন ও সেচ্ছাশ্রমে ৪১টি পুল এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সংস্কার করে নজির সৃষ্টি করেছে। যদিও সংগঠনটি রাজনৈতিক আদলে প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু তাদের কাজ পুরোপুরি অরাজনৈতিক। শুধু সমাজ উন্নয়নই তাদের লক্ষ্য। এই কারণে এখন উপজেলার সর্বমহলে প্রশংসায় ভাসছেন তারা।
জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে বছরের পর বছর ধরে যে উন্নয়ন অধরা ছিল। সেখানে এই সংগঠনের সদস্যরা এক ফোন কলে হাজির হন হাতে কোদাল, খোন্তা, কুড়াল ও হাতুড়ি নিয়ে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকার উন্নয়নে এভাবেই যুব সমাজ বদলে দিচ্ছে নিজের গ্রাম ও এলাকা।
গত আগস্টে সংগঠনের সাইফুল ইসলাম ও মাসুদ পারভেজের উদ্যোগে প্রথমে সাতটি পুল সংস্কারের কাজ শুরু হয়। তাদের নি:স্বার্থ এ সেচ্ছাশ্রম দেখে এগিয়ে আসেন এলাকার শিক্ষক ও সুশীল সমাজ। সেই উৎসাহে বেড়ে যায় কাজের গতি। এভাবে চার মাস ধরে চলছে তাদের অবিরাম সাপ্তাহিক উন্নয়ন অভিযান।
সংগঠনের সদস্যরা জানান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বনির্ভরতার দর্শন থেকেই তারা প্রেরণা পেয়েছেন। ইতোমধ্যে ৪১টির বেশি পুল, সেতু ও রাস্তা সংস্কার শেষ হয়েছে। কোনো সরকারি বরাদ্দ ছাড়াই চার মাসে তাদের এই অবকাঠামো উন্নয়নের এই অর্জন এলাকাবাসীর বিস্ময় জাগিয়েছে।
সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের সাগরকান্দা, দৈহারী ইউনিয়নের দৈহারী, বলদিয়া ইউনিয়নের বিন্না, একতা–চামী, জিরবাড়ী, রাজাবাড়ীসহ বহু এলাকায় বিদ্যালয়, মসজিদ, মন্দির ও বাজারঘাটসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও সড়কের সংস্কার কাজ করে যোগাযোগ ব্যবস্থায় পরিবর্তনের।
শনিবার (২২ নভেম্বর) তাদের তালিকায় যোগ হচ্ছে আরও দুটি নতুন পুল। সংগঠনের সভাপতি মাসুদ পারভেজ বলেন, বলদিয়া ইউনিয়ন সবচেয়ে বড় হলেও উন্নয়ন এখানে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। তাই নিজ ব্যয়ে পুল মেরামত শুরু করি। আমাদের কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে দেড় শতাধিক যুবক যুক্ত হয়েছে। আমরা সেচ্ছাশ্রমে উন্নয়নের নতুন ইতিহাস গড়তে চাই।
সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন,একসময় জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসে অপেক্ষা করতাম। এখন বুঝেছি যুব সমাজ চাইলে নিজ এলাকার চিত্র পাল্টে দিতে পারে। আমাদের ‘সবার আগে বলদিয়া’ তারই উদাহরণ।