শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০২৫ ১৭:০৬ পিএম
আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২৫ ১৭:৪৮ পিএম
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়া ড্যাপ সার সংকটে ভুট্টা ও আলু বপন মৌসুমে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষক। প্রয়োজনী সার না পাওয়ায় অনেক জায়গায় চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে।
কিছু সার মিললেও তা মিলছে অতিরিক্ত মূল্যে যা সাধারণ কৃষকের নাগালের বাইরে। মৌসুমী ফসল চাষে এই সংকট অব্যাহত থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি বাড়বে।
জানা যায়, সরকারি নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী প্রতি বস্তা ড্যাপ সার ১ হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে কৃষকদের ১ হাজার ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা দিয়ে এক বস্তা সার কিনতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।
সুঘাট ইউনিয়নের কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন,সরকারি দামে তো সার পাওয়া যায় না। ডিলাররা বলে সাপ্লাই নাই, অথচ বাজারে ঘুরলেই সার পাওয়া যায়। কিন্তু এ জন্য গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত দাম। আমি আমার এলাকায় সার না পেয়ে অন্য এলাকা থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকা দিয়ে সার কিনে চাষাবাদ করছি। এরকম অবস্থা চলতে থাকলে আমরা চাষাবাদ করবো কীভাবে?
শালফা গ্রামের কৃষক মো. মামুন জানান, আমি গত সপ্তাহে ১ হাজার ৩০০ টাকা বস্তা ড্যাপ সার কিনে কয়েক বিঘা জমিতে ভুট্টা লাগিয়েছি। এখন ৪ বিঘা জমি তৈরী করেছি, “ভুট্টার বীজ রেডি। কিন্তু সার না থাকায় বপন করতে পারছি না। যে সার পাওয়া যাচ্ছে তার দাম চাচ্ছে ১ হাজার ৬৫০ টাকা। বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন সংকট আগে দেখিনি। বাধ্য হয়ে দেড় হাজার টাকার বেশি দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে অনেক।
স্থানীয় ডিলাররা বলেন, নতুন সার এখনো আমাদের কাছে এসে পৌছায়নি, তাই কৃষক পর্যায়ে সার দিতে পারছিনা। তবে খুব দ্রুত সার এসে যাবে।
এ ব্যাপারে শেরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফারজানা আক্তার বলেন, আগামী কালকের মধ্যেই ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকের মাঝে সরকারি মূল্যে সার বিতরণ করা হবে। খুচরা পর্যায়ে সারের দাম বেশি নেয়ার অভিযোগ পেলে বাজার মনিটরিং করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকদের যাতে বপন মৌসুমে সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে আমরা নজরদারি করছি।