চাঁদপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০২৫ ২০:১৬ পিএম
একটি ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় গত ১৮ নভেম্বর মঙ্গলবার ‘নামের ভুলে কারাবাস’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের দুই দিন পরই পরিবারের কাছে ফিরলেন সেই ভ্যানচালক আমান ছৈয়াল।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। সকাল থেকে জেলা কারাগারের সামনে আসতে শুরু করেন তার পরিবারের সদস্যরা। পরে দুপুরে জেল গেটের ভেতর থেকে বের হওয়ার পর স্ত্রী-সন্তানদের চোখে আনন্দের কান্না শুরু হয়। বিনা অপরাধে নামের ভুলে একমাস কারাভোগ শেষে পরিবারের কাছে ফিরতে পেরে খুশি আমান ছৈয়াল। সে চাঁদপুর শহরের দর্জিঘাট এলাকার মোল্লা বাড়িতে ভাড়া থাকেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচাজ মো. বাহার মিয়া একটি প্রতিবেদন দাখিল করার পর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুনতাসির আহমেদ এই সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। নামের ভুলে ভ্যানচালক আমান ছৈয়ালকে শুধু জামিন নয়, মামলা থেকে অব্যাহতির নির্দেশ দিয়েছেন চাঁদপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
স্ত্রী, সন্তানের কাছে ফিরে আসতে পেরে বেজায় খুশি আমান ছৈয়াল। ওই সময় তাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় টেলিভিশন ও প্রতিনিধির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তার পরিবার ও এলাকাবাসী।
ভ্যানচালক আমান ছৈয়ালের আইনজীবী ছিলেন এডভোকেট হারুনুর রশিদ। তিনি জানান, প্রতিবেদনটি দেখার পর থেকে জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক খোঁজখবর নিয়েছেন। দ্রুত আমানের মুক্তির বিষয়ে ব্যবস্থার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। শুধু নামের মিল ছিল। আর কিছু মিল ছিল না। সে একজন ভ্যানচালক। ভুলবশত আমানকে কারাবাস করতে হয়। মামলা থেকে অব্যাহতির খবরে আমান ছৈয়ালের পরিবারের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।
আমানের স্ত্রী বলেন, এক মাস ধরে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। কেউ পাশে দাঁড়ানি। পরে জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের কাছে শরণাপন্ন হন তিনি। স্বামীকে ফিরে পেয়ে চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন শান্ত ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিক মনিরুজ্জামান বাবলুসহ পুলিশ প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
মুক্তি পাওয়া আমান ছৈয়াল বলেন, কখনও কারাগারে ছিলাম না। কয়েকদিন অসুস্থ ছিলেন। কারাগারের ভেতরেই ভালো চিকিৎসা সেবা পেয়েছেন। এত দ্রুত মুক্তি পাবে তা ভাবতে পারেননি। ওই সময় তাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় ওই টেলিভিশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি এবং তার পরিবার।
এ বিষয়ে চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন শান্ত বলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের বাসভবন ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় ১৮৫তম আসামি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আমান। তার বাবার নাম আবদুর রশিদ। অথচ পুলিশ ভ্যানচালক আমান, তার পিতা মান্নান ছৈয়াল- তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। বিষয়টি নিয়ে আদ্যোপান্তো প্রতিবেদন করায় ওই টেলিভিশনের কলা-কৌশলীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান ভ্যানচালক আমান ও তার পরিবার।
এর আগে গত ২০ অক্টোবর চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) বাহার মিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের বাসভবন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় আমান ছৈয়ালকে। অথচ মামলার এজহারে ১৮৫ নম্বর আসামি আমান জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। ৫ আগস্টের পর থেকে সে পলাতক। পরে গত ১৮ নভেম্বর দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।