রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৯ ডিসেম্বর ২০২২ ১৫:৩৫ পিএম
আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২২ ১৫:৫৫ পিএম
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগ। ছবি : প্রবা
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগ। নাক, কান ও গলা বিভাগের চিকিৎসকের রুমের সামনে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন রোগীরা। ভেতরে চিকিৎসক একে একে রোগী দেখছেন আর ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। রোগী বের হওয়ামাত্র তার হাত থেকে ব্যবস্থাপত্র প্রায় কেড়ে নিয়ে ছবি তুলছেন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা। একই চিত্র দেখা গেছে মেডিসিন, চর্ম ও যৌন, হৃদরোগসহ আউটডোরের সব বিভাগের চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে। কেউ প্রতিবাদ করলেও তা কাজে আসে না। প্রায় প্রতিদিনকার চিত্র এটি।
তার ওপর আছে পকেটমারের দৌরাত্ম্য। এতে অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বারবার ব্যবস্থা নিয়েও থামানো যাচ্ছে না তাদের।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘রিপ্রেজেন্টেটিভদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বলে দেওয়া আছে, সোম ও বুধবার দুপুর একটা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত তারা ডাক্তারদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। তারা নিজেদের শিক্ষিত বলে দাবি করেন। অথচ তাদের কর্মকাণ্ডে আমরা মর্মাহত। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু তারা চুপিচুপি হাসপাতালে ঢুকে রোগী ও স্বজনদের বিরক্ত করছেন। ব্যবস্থাপত্র রোগীর গোপনীয় বিষয়। তারা তা জেনেও এমন অপরাধ করছেন।’
হাসপাতালটির আউটডোরে ডাক্তারের তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি জানিয়ে তিনি বলেন, শনিবার হাসপাতালটির আউটডোরে সেবা নিয়েছেন প্রায় সাড়ে ৬ হাজার রোগী। মেডিসিন বিভাগে মাত্র চারজন ডাক্তার। শনিবার রোগী ছিলেন ১ হাজার ২০০। ফলে রোগীরা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হন।
হাসপাতাল এলাকায় রিপ্রেজেন্টেটিভদের প্রবেশ ঠেকাতে গত জুনে আনসার সদস্যদের নিয়ে মাঠে নামে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তা কোনো কাজে আসেনি বলে কর্তৃপক্ষের ভাষ্য।
এদিকে আউটডোরে প্রতিদিন রোগী বা তাদের স্বজনদের টাকা, মোবাইল ফোন চুরি হচ্ছে। পকেট ও ব্যাগ কেটে টাকা নিয়ে যাচ্ছে।
নাটোর থেকে করিম মিয়া এসেছিলেন তার বাবাকে নিয়ে। আউটডোরে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটে ডাক্তারের রুমের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। হাসপাতালে প্রবেশের মাত্র আধঘণ্টার মধ্যেই পকেটে হাত দিয়ে দেখেন বাবার চিকিৎসার টাকাগুলো নেই।
পকেটমাররা ধরা পড়ে মাঝে মাঝে। বৃহস্পতিবার আউটডোর থেকে এক পকেটমারকে ধরে ফেলেন রোগীর স্বজনরা। কিল-ঘুষি দিয়ে তাকে পুলিশে দেওয়া হয়।
পরিচালক শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ আমরা সবাই তৎপর রয়েছি। প্রতিদিন এখানে ৮ থেকে ৯ হাজার বিপদগ্রস্ত মানুষ আসেন। পকেটমাররা সেটা জেনে এবং বুঝে হাসপাতালকে টার্গেট করেছে। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। কিন্তু রোগী ও তাদের স্বজনদের সতর্ক থাকতে হবে।’