ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৫ ২০:০১ পিএম
আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৫ ২০:১৩ পিএম
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বর্গাচাষি ও ক্ষুদ্র কৃষকদের কাটা ধানে দুর্বৃত্তদের আগুন দেওয়ার ঘটনা বাড়ছে। রাতের আঁধারে ফসলের মাঠে ও জমিতে জড়ো করে রাখা ধান পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষকের সারা বছরের পরিশ্রম, পাশাপাশি এলাকায় বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা।
সর্বশেষ বুধবার (১৯ নভেম্বর) গভীর রাতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বাগমারার খামারপাড়া এলাকার বর্গাচাষি মুহাম্মদ সেলিমের পাকা ধানের গাদায় আগুন লাগিয়ে সব শেষ করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এর আগে গত এক সপ্তাহে উপজেলার হারুয়ালছড়ি ও নাজিরহাট পৌরসভার দৌলতপুরসহ মোট তিন ঘটনায় কৃষকদের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত চাষি মুহাম্মদ সেলিম জানান, বুধবার ধান কেটে পরদিন সকালে মাড়াই করার প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার গিয়ে দেখতে পাই ধান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা ২০০ শতক (৫ কানি) ধানের কয়েকটি গাদা (স্তূপ) ছিল। পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।
সেলিম আরও বলেন, ‘আমি এসব জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করে পরিবার চালাই। এসবে অন্তত ৫০০ আড়ি ধান হতো। আমার জমির ধানগুলো কী দোষ করল। জমিতে রাখা ধানগুলো আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হলো। মানুষের সঙ্গে বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু ফসলের কী অপরাধ?’
স্থানীয় বাসিন্দা ও রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, মাঠের জমিতে রাখা ধানের গাদায় আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রামের মানুষ আতঙ্কিত। সপ্তাহের ব্যবধানে তিনটি ঘটনায় উপজেলাজুড়ে কৃষকের মাঝে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সালেক বলেন, খবর পেয়ে মাঠকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেছেন। আমরা ওই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছি।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আহমেদ বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, এসব ঘটনা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত। মানুষের সঙ্গে শত্রুতা শুনেছি, কিন্তু এভাবে জমির ধান পুড়িয়ে দেওয়া একবারেই অমানবিক। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে দ্রুত ব্যবস্থার নির্দেশনা দিয়েছি।