রংপুর অফিস
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ২০:২৬ পিএম
আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ২০:৩৮ পিএম
রংপুর বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজনে বইমেলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বয়কট করেছে শিল্পীরা। প্রাপ্য মর্যাদা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের সব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দিয়ে মানববন্ধন করেছেন তারা।
সাংস্কৃতিক ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকালে রংপুর প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে কর্মসূচিতে বক্তৃতা করেনÑ সংগঠনের সভাপতি চৌধুরী মাহমুদুন নবী ডলার, কাজী মো. জুন্নুন, কাইফুল ইসলাম, শাহ আলম প্রমুখ।
এতে বক্তারা বলেন, বিভাগীয় বইমেলা উপলক্ষে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সাংস্কৃতিক উপকমিটির আলোচনায় বিভাগীয় শহরের অনুষ্ঠান জাঁকজমক করতে শিল্পী সমাজের পক্ষ থেকে বড় স্টেজ, এলইডি, সাউন্ড, লাইটিং এবং শিল্পীদের সম্মানীর ব্যবস্থা করার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়। এতে বিভাগীয় প্রশাসন সম্মত হন। এরপর বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় তাদের ইচ্ছে অনুযায়ী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে হবে।
এ নিয়ে সাংস্কৃতিক উপকমিটির রেজুলেশনে আলোচনার কথা শিল্পীরা তুললে বিভাগীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেটি মানেন না বলে জানান। এতে প্রশাসন ও শিল্পী একে অন্যের মুখোমুখি অবস্থান করছেন। পরবর্তীতে বাজেটের অজুহাতে শিল্পীদের ২০ টাকার নাস্তা এবং বিরিয়ানির একটি প্যাকেট দেওয়ার কথা জানায় বিভাগীয় প্রশাসন। এ কারণে শিল্পীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। যতদিন পর্যন্ত শিল্পীদের প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া হবে না, ততদিন পর্যন্ত বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বয়কটের ঘোষণা দেওয়া হয় মানববন্ধনে।
সেই সঙ্গে শিল্পকলা ও শিশু একাডেমির শিল্পীদেরও বইমেলাসহ প্রশাসনের সব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বয়কটের আহ্বান জানানো হয়।
সাংস্কৃতিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি চৌধুরী মাহমুদুন নবী ডলার বলেন, ২০ টাকার নাস্তা আর একটি বিরিয়ানির প্যাকেট অফার করে শিল্পীদের অপমান করেছে বিভাগীয় প্রশাসন। অথচ সাংস্কৃতিক উপকমিটিতে প্রশাসন শিল্পীদের চাহিদা পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর শিল্পীদের প্রতি বৈষম্যমূলক কোনো আচারণ মেনে নেওয়া হবে না। আজ থেকে আমরা প্রশাসনের সব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ চলমান রংপুর বিভাগীয় বইমেলা বর্জন করলাম। সেই সঙ্গে রংপুরবাসীকেও বইমেলা বর্জনের আহ্বান জানাচ্ছি।