বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ২০:২৪ পিএম
আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ২০:৩৭ পিএম
দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি ও চট্টগ্রাম সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সাবেক উপ-কমিশনার হামিদুল আলম মিলন এবং তার স্ত্রী মেধা এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর শাহজাদী আলম লিপির জ্ঞাত আয়বহির্ভূত স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বগুড়ার সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির দুদকের করা দুটি পৃথক আবেদন মঞ্জুর করেন।
আদেশে বলা হয়, ক্রোককৃত কোনো সম্পদই যাতে হস্তান্তর বা স্থানান্তর করা না যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রার, সাবরেজিস্ট্রার এবং বিভিন্ন উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল বাছেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের বগুড়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. জাহিদুল ইসলাম দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর সম্পত্তি ক্রোক ও রিসিভার নিয়োগের আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশ অনুসারে বগুড়ার সম্পত্তির জন্য : বগুড়া জেলা প্রশাসক ও গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে, ঢাকার সম্পত্তির জন্য : ঢাকা জেলা প্রশাসক, গণপূর্ত বিভাগ মহাখালী ও গণপূর্ত বিভাগ ঢাকা-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলীকে, নারায়ণগঞ্জের সম্পত্তির জন্য : নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে রিসিভার হিসেবে নিয়োগ করা হয়।
এ ছাড়া শাহজাদী আলম লিপির সম্পত্তির ক্ষেত্রেও বগুড়া ও ঢাকা জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের রিসিভার নিযুক্ত করা হয়েছে।
হামিদুল আলম বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার তাজুরপাড়ার মৃত এএসএম ইবনে আজিজের ছেলে এবং শাহজাদী আলম লিপি মৃত ডা. শহীদুল্লাহ মণ্ডলের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হামিদুল আলমের স্ত্রী শাহাজাদী আলম লিপি বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। হামিদুল সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে স্ত্রীর নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেনÑ যার সত্যতা পায় বগুড়া-১ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি। ওই নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ২০২৪ সালের ৪ জানুয়ারি বরিশাল মহানগর পুলিশের তখনকার অতিরিক্ত কমিশনার হামিদুল আলমকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে তাকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর লিপির বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা হলে আত্মগোপনে চলে যান।