রংপুর অফিস ও বেরোবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৪৭ পিএম
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (ব্রাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৯ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ, গণনা ও ফলাফল ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত ৯টায় ব্রাকসুর তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. শাহজামান।
এদিকে বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের তফসিল প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষার্থীদের একাংশ। শীতকালীন ছুটির মধ্যে নির্বাচন না দেওয়া এবং দাবি অনুযায়ী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন না হওয়ায় তফসিল প্রত্যাখ্যান করার কথা জানান তারা। নির্বাচনের সময় এগিয়ে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেওয়া না হলে কঠোর কর্মসূচি পালনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীদের এই অংশটি।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৮ নভেম্বর আচরণবিধি (প্রস্তাবিত) সিন্ডিকেট সভাপতি বরাবর প্রেরণ, ২২ নভেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ, ২৪ নভেম্বর ভোটার তালিকায় আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি, ২৬ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, ৩০ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বিতরণ, ২-৩ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিল, ৪-৬ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই, ৭ ডিসেম্বর প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ, ৮ ডিসেম্বর প্রাথমিক তালিকা সম্পর্কে প্রার্থীদের আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি, ৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার, ১০ ডিসেম্বর প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট, ১৩ ডিসেম্বর প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ এবং ২৯ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ এবং ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে তফসিল প্রকাশ করা হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. শাহ্জামান বলেন, ‘স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই ব্রাকসু নির্বাচনের প্রধান লক্ষ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি মানদণ্ড স্থাপন করার মতো নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন শুরু থেকেই সতর্ক ও সক্রিয় রয়েছে।’
সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি ধাপে আমরা যথাযথ নিয়মনীতি অনুসরণ করছি। ভোটার তালিকা থেকে শুরু করে মনোনয়ন, বাছাই, আপত্তি নিষ্পত্তি, ডোপ টেস্ট সবকিছুতেই আমরা কঠোর তদারকিতে থাকব।’
এদিকে তফসিল ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফেসবুক পেজ, গ্রুপ ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। বুধবার শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এদিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষার্থী আহমাদুল হক আলভী, মেহেদী হাসান, শিবলী সাদিক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ব্রাকসু নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ, আমরণ অনশনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। গত ২৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ছাত্র সংসদ আইন আনুষ্ঠানিকভাবে সংযুক্ত করা হয়। শুরুতে প্রশাসন অক্টোবর মাসে নির্বাচন আয়োজনের আশ্বাস দিলেও কালক্ষেপণ করে এক মাস পর ১৮ নভেম্বর রাতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়।
তারা আরও জানান, আগামী ১৭ ডিসেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শীতকালীন ছুটি শুরু হবে। শিক্ষার্থী ছাড়া ব্রাকসু নির্বাচন অর্থহীন। এই পরিস্থিতিতে ২৯ ডিসেম্বর ব্রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। তাই তফসিল পুনর্বিবেচনা করে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন আয়োজনের জোর দাবি জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘ইতোমধ্যে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন হয়েছে, আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। যাতে আমাদের ব্রাকসুতে তারিখ পরিবর্তন না করতে হয়, সবদিক বিবেচনা করে তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।’