শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
অনাথ মন্ডল, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:০৬ পিএম
শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুদের সিঁড়িতে শুইয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রবা ফটো
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় শীতের শুরুতেই শিশুরা ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেড সংকট থাকায় শিশুদের হাসাপাতালে মেঝেতে শুইয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিদিনই বিভিন্ন রোগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর চাপে হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোয় অনেকের জায়গা মিলছে না। শিশু ওয়ার্ডে বেডের অভাবে অনেক শিশুকে সিঁড়ি ও মেঝেতে শুইয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে শিশুর পাশাপাশি অভিভাবকরাও দুর্ভোগে পোহাচ্ছেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, হাসপাতালের সিঁড়ি ও মেঝেতে শুয়ে কয়েকটি শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। তাদের পাশে বসে আছেন উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। শিশুর অভিভাবক মনজুরা খাতুন বলেন, আমার ছেলেটা জ্বরে পড়ে তিন দিন হাসপাতালে ভর্তি আছে। বেড না পেয়ে সিঁড়ির নিচে ছেলের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রাতে মশা ও ধুলাবালিতে থাকা কষ্টকর।
আরেক শিশুর অভিভাবক জ্যোৎস্না রানী বলেন, তার তিন মাস বয়সি শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও শিশু ওয়ার্ডে জায়গা হয়নি। তাকে একই ওয়ার্ডের টয়লেটের পাশে বিছানা করে জায়গা দেওয়া হয়েছে। অর্ধশতাধিক রোগীর স্বজনরা ওই টয়লেটে যাতায়াতের কারণে শিশুটি আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলে দাবি করেন তিনি। সরকারি হাসপাতাল হওয়া সত্ত্বেও চিকিৎসা নেওয়ার মতো জায়গা না থাকায় তিনি হতাশা।
ডাক্তাররা জানান, শিশুদের জন্য নির্ধারিত বেড সংখ্যা ৬টি। প্রতিদিন ২৫-৩০ জন শিশু রোগী ভর্তি হয়। বাধ্য হয়ে যেখানে জায়গা ফাঁকা থাকে, সেখানে রোগীর রাখার ব্যবস্থা করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ জন সেবা নিতে আসে। এবং ৮০ থেকে ১০০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। এর মধ্যে শিশু ওয়ার্ডের পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। কয়েকদিনে ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও ভাইরাল জ্বরের রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বেড সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
শ্যামনগর উপজেলায় ৪ লাখ মানুষ বাস করে। এ ছাড়া পাশ্ববর্তী কালীগঞ্জ ও কয়রা উপজেলার মানুষ এখানে সেবা নিতে আসে।
আরও জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটির পুরনো ভবন ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় তা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আরেকটি দোতলা ভবনের ওপরে তৃতীয় ও চতুর্থ তলা নির্মাণ হলেও তা চালু হয়নি। এ দোতলা ভবনের নিচতলায় বহির্বিভাগ, দ্বিতীয় তলায় প্রসূতি বিভাগ রয়েছে। এ বিভাগের বারান্দায় বোর্ড ও কাচ দিয়ে শিশু ওয়ার্ড বানানো হয়েছে। সেখানে শয্যা মাত্র ৬টি। সেখানে স্থান সংকুলন না হওয়ায় শিশুদের ভবনটির একতলা থেকে তিন তলা পর্যন্ত সিঁড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি টয়লেটের সামনের ফাঁকা জায়গায় বিছানা পেতে শিশুদের চিকিৎসা চলছে। এ ছাড়া প্রশাসনিক ভবনে থাকা ৪টি কেবিনের দুটিকে পুরুষ এবং দুটিকে নারী ওয়ার্ডে পরিণত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার জিয়াউর রহমান বলেন, রোগীর চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। আমাদের বেড সংখ্যা সীমিত, তাই অনেক সময় মেঝেতে, করিডোরে বা সিঁড়িতেও রোগী রাখতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয়রা দ্রুত শিশু ওয়ার্ডে বেড সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি আলাদা ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহল হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যাপ্ত ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ এবং শিশু ওয়ার্ড সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন।