মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:০২ পিএম
ঢাকা-নরসিংদী হতে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় প্রবেশপথে পুটিয়া বটতলা বাজারের টোক কাপাসিয়া ও কটিয়াদি নিকলী রোডের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের পাশে বসানো সৌরবাতির অধিকাংশ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় শুধু ল্যাম্পপোস্ট দাঁড়িয়ে আছে, আবার কোথাও বাতি থাকলেও আলো জ্বলে না। এই আলো-আঁধারির সুযোগে বাড়ছে মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য।
এমন পরিস্থিতিতে পথচারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে নিজ অর্থে ল্যাম্পপোস্টগুলো মেরামত করছেন কিশোরগঞ্জ জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ রমজান।
গত বৃহস্পতিবার রাতে পাকুন্দিয়া উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নের পুটিয়া বটতলা বাজারের কয়েকটি নষ্ট সৌরবাতি নিজ উদ্যোগে মেরামত করেন হাসান আহমেদ রমজান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া উপজেলা ও বুরুদিয়া ইউনিয়ন, গণঅধিকার পরিষদ ও যুব অধিকার পরিষদের নেতারা।
জানা যায়, বিগত সরকার কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলাকে আলোকিত করতে শত শত সৌর ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করেন। প্রতি সৌর ল্যাম্পপোস্ট স্থাপনে সরকারের খরচ হয় ৬০-৭০ হাজার টাকা। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, কিছু দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধির কারণে নিম্নমানের সৌর প্যানেল ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ ব্যবহারে অনেক সৌর ল্যাম্পপোস্ট অকেজো হয়ে পড়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সৌরবাতিগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের কথা থাকলেও সঠিকভাবে করা হয়নি।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বাইপাস প্রবেশপথ থেকে শুরু করে মহাসড়কের অধিকাংশ সৌরবাতিই অকেজো। কয়েকটি জায়গায় খুঁটিগুলো দাঁড়িয়ে থাকলেও বাতিগুলো উধাও হয়ে গেছে। কয়েকশ বাতি বসানো হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দীর্ঘদিন ধরেই নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।
ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা অনন্য পরিবহনের বাসচালক আসলাম মিয়া বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে লাইট না থাকার কারণে প্রতিদিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দা আবিদ হোসেন বলেন, নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহারের কারণে লাইটগুলো অকেজো হয়ে গেছে। বারবার অভিযোগ জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি।
কিশোরগঞ্জ জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ রমজান বলেন, বেশিরভাগ ল্যাম্পপোস্ট নষ্ট থাকায় অন্ধকারে চুরি-ডাকাতিসহ মাদক কারবারিদের আনাগোনা বেড়েছে, তাই বাজারের ব্যবসায়ী ও পথচারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে নিজস্ব অর্থে ল্যাম্পপোস্ট মেরামত করছি।
এ প্রসঙ্গে পাকুন্দিয়া উপজেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনিমুল হক বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর বেশিরভাগ বাতিই চুরি হয়ে গেছে। বর্তমানে কোনো বরাদ্দ নেই, তবে দ্রুতই বাতিগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
হাইওয়ে থানার এসআই মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সৌরবাতিগুলো বন্ধ থাকায় অপরাধীরা সুযোগ নিচ্ছে। সৌরবাতিগুলো চালু থাকলে পুলিশের কাজ করতেও সুবিধা হতো।