চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ২২:০৩ পিএম
জুলাই মাসে ‘খালিদ’ ও ‘ঘায়া’ নামে দুটি টাগবোট রপ্তানির পর এবার ৩টি ল্যান্ডিং ক্রাফট সংযুক্ত আরব আমিরাতে রপ্তানি করতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ণ মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) ‘মায়া’, ‘এমি’ এবং ’মুনা’ নামে এই তিনটি জাহাজ ক্রেতা প্রতিষ্ঠান মারওয়ান শিপিং অ্যান্ড ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন সোহেল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি জানান, ‘গত বছর মারওয়ান শিপিং অ্যান্ড ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে আমরা বিভিন্ন ধরনের ৮টি জাহাজ নির্মাণের ক্রয়াদেশ পেয়েছিলাম। ওই ৮টি জাহাজের ইতোমধ্যে রায়ান নামে একটি ল্যান্ডিং ক্রাফট এবং খালিদ ও ঘায়া নামে দুটি টাগবোট প্রতিষ্ঠানটির কাছে হস্তান্তর করেছি। ওই চুক্তির আওতায় বৃহস্পতিবার তিনটি ল্যান্ডিং ক্রাফট আমরা প্রতিষ্ঠানটির কাছে হস্তান্তর করবো।’
এ নিয়ে চলতি বছর ৬টি জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরাতে রপ্তানি করতে যাচ্ছে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপ ইয়ার্ড। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে রায়ান নামে একটি ল্যান্ডিং ক্রাফট এবং জুলাই মাসে খালিদ ও ঘায়া নামে দুটি টাগবোট সংযুক্ত আরব আমিরাতে রপ্তানি করে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে এ নিয়ে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সর্বমোট ৩৯টি জাহাজ রপ্তানি করতে যাচ্ছে ওয়েস্টার্ন মেরিন।
২০১০ সালে প্রথম জাহাজ রপ্তানি শুরু করে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড। এরপর ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের ১১টি দেশে ৩৩টি জাহাজ রপ্তানি করে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে দুটি বাল্ক কেরিয়ার রপ্তানির পর দীর্ঘ চার বছর ধরে তারা আরও কোনো জাহাজ রপ্তানি করতে পারেনি। এরপর ২০২৩ সালে মারওয়ান শিপিং লিমিটেডের কাছ থেকে ৮টি জাহাজ নির্মাণের ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর চলতি বছর থেকে প্রতিষ্ঠানটি আবার জাহাজ রপ্তানি শুরু করেছে।
ওয়েস্টার্ন মেরিন লিমিটেড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে ওয়েস্টার্ন মেরিন সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মারওয়ান শিপিং লিমিটেডের সঙ্গে ৮টি জাহাজ নির্মাণের চুক্তি করে। যার মধ্যে রয়েছে ২টি টাগবোট, ৪টি ল্যান্ডিং ক্রাফট এবং ২টি অয়েল ট্যাংকার। এর মধ্যে ৪টি ল্যান্ডিং ক্রাফট ও ২টি টাগবোট রপ্তানি করা হচ্ছে এই বছর। প্রতিষ্ঠানটির কার্যাদেশ দেয়া বাকি দুটি অয়েল ট্যাংক ২০২৬ সালের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।
প্রসঙ্গত, জাহাজ নির্মাণ কাজ শুরু পর থেকে এই পর্যন্ত ১১টি দেশে বিভিন্ন ধরনের ৩৬টি জাহাজ রপ্তানি করেছে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারওয়ান শিপিং অ্যান্ড ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের প্রথম জাহাজ রপ্তানি করে ২০১৭ সালে।