উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ২১:৪০ পিএম
কক্সবাজারের উখিয়ায় গ্রামের অভ্যন্তরের লোকালয় থেকে এক বন্যহাতির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে বনকর্মীরা। বৈদ্যুতিক ফাঁদের তারে স্পৃষ্ট হয়ে হাতিটি মারা যায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগেও রক্তাক্ত অবস্থায় আরও দুটি মৃত হাতি উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলা রাজা পালং ইউনিয়নের হরিনমারা-পশ্চিম খয়রাতি রহমানিয়া পাড়াসংলগ্ন বিলে স্থানীয়রা হাতিটি মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতে পেয়ে বনবিভাগকে খবর দেন।
বন বিভাগের উখিয়া রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, বনকর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় স্থানীয় বিলে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকা হাতিটি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত হাতিটির বয়স আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ বছর। হাতিটির শরীরের কয়েকটি জায়গায় কালচে পুড়া দাগ রয়েছে।
রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, হাতিটির মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে না পারলেও শরীরে কালচে পুড়া দাগ দেখে প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক তারের ফাঁদে পড়ে মৃত্যু হতে পারে।
স্থানীয়রা জানান, হাতির পাল থেকে ক্ষয়ক্ষতি রক্ষা পাওয়ার জন্য ধান চাষাবাদে বৈদ্যুতিক ফাঁদ বসানো অভিযুক্ত সেই শামসুল আলম পালাতক রয়েছে।
বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্ত করার জন্য দুপুরে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার ছৈয়দ হোসেন ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন এবং মৃত হাতির আলামত সংগ্রহ করে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার ডাক্তার সৈয়দ হোসেন জানান, হাতিটির কানের ডান পাশে একটি পুড়া গভীর ক্ষত পাওয়া গেছে। এছাড়াও হাতিটির শরীরে কয়েকটি স্পট রয়েছে। তবে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর বলা যাবে হাতির মৃত্যুর আসল রহস্য।
স্থানীয় মেম্বার ছৈয়দ হামজা বলেন, ‘পাহাড়ে খাদ্য সংকটের কারণে বন্যহাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। এতে অনেক সময় বন্যহাতি লোকালয়ে চলে আসে। সাম্প্রতিক সময় পাহাড়ি এলাকার আশপাশে বন্যহাতির বিচরণ বেড়ে গেছে। এতে লোকালয়ে আসা হাতির হানায় ফসলের ক্ষেত এবং বসতঘর ক্ষতি হয়।
উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম জানান, জিআই তারে বিদ্যুতের শর্ট দিয়ে হাতি মারার জন্য ফাঁদ বসিয়েছিল। সেই বৈদ্যুতিক ফাঁদে হাতিটির মৃত্যু হয়।
দোছড়ি বিট কর্মকর্তা ইমাদুল হক রনি জানান, ময়নাতদন্ত শেষে হাতির মৃতদেহ মাটি দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাতিটির মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে খোঁজ খবর নেওয়াও হচ্ছে।’
বনবিভাগের তথ্যমতে, উখিয়ার দোছড়ি বনবিটের বনাঞ্চলে ১৮ সেপ্টেম্বর ও ১৩ মে জুমছড়িতে ১টি, দোছড়িতে ১টি এবং সর্বশেষ ১৮ নভেম্বর পশ্চিম খয়রাতিতে একটি হাতি মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।