শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ২১:১১ পিএম
বাংলা দিনপঞ্জিকা অনুযায়ী এখন চলছে অগ্রহায়ণ মাস। বাঙ্গালীদের জন্য এ মাসকে উৎসবের মাস ধরা হয়। গ্রাম বাংলার মানুষ এ মাসে নবান্ন উৎসবে মেতে উঠে। এটি মূলত কৃষিজীবী-শ্রমজীবী মানুষের নতুন ধান কাটা ও সেই ধানের প্রথম ভাত খাওয়ার একটি আনন্দঘন অনুষ্ঠান। তাদের আত্মীয়-স্বজন জামাই সহ সবাইকে নিয়ে এ নবান্ন উৎসব পালন করার একটা প্রবণতা আবহমান কাল ধরে চলে আসছে। পাড়া মহল্লার প্রতিটি গৃহে আত্মীয়দের সাথে নিয়ে নতুন ধানের পায়েস, ক্ষীর, পিঠা, খই মুড়ি দই খাওয়াই যেন নবান্নের ঐতিহ্য।
কিন্তু এ ঐতিহ্যকে লালন করতে গিয়ে প্রতিটি গৃহে যেন চলছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির আক্ষেপের সুর। শেরপুরে নবান্নকে ঘিরে সবজির দাম চড়া, প্রতিটি সবজি কেজিতে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে, এতে বাজার করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। বিক্রেতারা বলছেন এবারের মৌসুমে সবজির দাম কমার কোন সম্ভাবনা নেই। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে শেরপুরের একমাত্র পাইকারি সবজির বাজার ফুলবাড়ীতে গিয়ে দেখা গেছে এমন চিত্র ।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, সবজির চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ এখনও কম। দাম কিছুটা বেড়েছে, আরও কিছুদিন সবজির দাম বেশি থাকবে। উৎপাদন এবং সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে হয়তোবা কিছুটা কমতে পারে। তবে পাইকারি বাজার থেকে কিনে প্রতি কেজিতে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি বেশিতে বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীম গত সপ্তাহে পাইকারী ৮০ থেকে ৯০ টাকা এবং খুচরা বাজারে তা বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা। বাঁধাকপি গত সপ্তাহে ছিল ৪০ টাকা এ সপ্তাহে ৬০ টাকা ফুলকপি গত সপ্তাহে ছিল ৫৫ টাকা আজ তা বেড়ে ৬৫ টাকা। কাঁচামরিচ গত সপ্তাহে ছিল ১২০ টাকা আজকে ১৬০ টাকা। গত সপ্তাহে পটল ছিল ৪৫ টাকা তা আজ বেড়ে ৬৫ টাকা। শসা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ টাকা সপ্তাহের ব্যবধান পেরিয়ে আজ ৬০ টাকা। লাউ প্রতিটি গত সপ্তাহে ছিল ৪০ টাকা এ সপ্তাহে তা বেড়ে ৫৫ টাকা। এভাবে বেড়েছে অন্যান্য সবজির দামও।
এছাড়া শেরপুরে উল্লেখযোগ্য বাজার গূলোর মধ্যে খামার কান্দি, শিবপুর, পার ভবানীপুর খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে সিম ১৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, ফুলকপি ৭০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, পটল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা শসা ৭০ টাকা, করলা ৮৫ টাকা, লাউ ৬০ টাকা, বেগুন ১২০ টাকা, বরবটি ৭০ ঝিঙে ৪০ টাকা, কদর ৫০ টাকা, নতুন পিয়াজ ৯০ থেকে ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৭০ থেকে ৮০ টাকা, লেবুর হালি ২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
বাজার করতে আসা সুধীরচন্দ্র সরকার বলেন আজকের নবান্নের বাজারে আমাদের মত স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য বাজার করা দুরূহ। বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন দাওয়াত দেওয়া আছে তাদেরকে আপ্যায়নের জন্যই বাজার করতে আসছি; কিন্তু পারছি না। এ যেন দেখে আফসোস করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।
আশির্ধ বয়সের মাহবুবার নামে এক কৃষক জানান, বাড়িতে জামাই-মেয়ে, নাতি-নাতনি দের দাওয়াত করেছি। কিন্তু বাজারে দ্রব্যমূল্যের দামের যা অবস্থা, আমাদের বয়সে কি দেখলাম আর আজকে কি দেখছি ।