নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ২১:০৩ পিএম
নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী) আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মশাল মিছিল করেছে দলটির একাংশের নেতাকর্মীরা। সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সেনবাগ বাজারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় তারা বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুকের পরিবর্তে স্থানীয় নেতা কাজী মফিজুর রহমানকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে নানা স্লোগান দেন।
এসময় মশাল হাতে কাজী মফিজুর রহমানের অনুসারীরা উপজেলা পরিষদ এলাকায় জড়ো হন এবং সেখান থেকে তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করে উপজেলা পরিষদ গেট, সেনবাগ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়, প্রেসক্লাব মোড়, থানার মোড় পেরিয়ে দক্ষিণ বাজারে গিয়ে শেষ করেন। মিছিলে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীরা ‘পরিবর্তন চাই, সেনবাগের মনোনয়ন’, ‘কাজী মফিজ ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘অবৈধ ঘোষণা মানি না—মানব না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এছাড়াও তারা কাজী মফিজকে নিয়ে জয়নুল আবদিন ফারুকের কথিত অশালীন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানান।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, সেনবাগ বিএনপির রাজনীতিতে কাজী মফিজুর রহমান ও জয়নুল আবদিন ফারুকের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব রয়েছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই বিবাদ স্থানীয় রাজনীতিকে প্রভাবিত করছে। উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মফিজ পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনিও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে বিএনপি নোয়াখালী-২ আসনে পাঁচবারের সাবেক সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের নাম চূড়ান্ত করেছে।
মশাল মিছিলে অংশ নেওয়া ফখরুল ইসলাম নামের বিএনপির সমর্থক বলেন, মানুষ বিএনপি ও ধানের শীষের সঙ্গেই থাকতে চায়, কিন্তু নেতৃত্বে পরিবর্তনও চায়। গুণে ধরা, দল বিক্রি করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া, স্বৈরাচারীভাবে দল চালানো—এমন নেতাদের আর কেউ চায় না। স্থানীয় রাজনীতিকে পারিবারিক সমিতিতে পরিণত করা নেতৃত্বের বদলে মানুষ নতুন, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব আশা করে। ভোট দিয়ে কেউই নেতার অপকর্মের দায় নিজের ঘাড়ে নিতে চায় না—অপকর্মে জড়িত কাউকে ফের সুযোগও দিতে চায় না। বাংলাদেশের মানুষ আজ রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন চায়।
গতানুগতিক বাটপারতন্ত্রের রাজনীতিকে তারা ঘৃণা করে।
এ বিষয়ে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মফিজুর রহমান বলেন, আমি বর্তমানে হাসপাতালে রোগী নিয়ে আছি। আমার নেতাকর্মীরা বিশাল মশাল মিছিল করেছে—এটা তাদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের বহিঃপ্রকাশ। ফারুক সাহেবকে মনোনয়ন দেওয়ায় তারা অখুশি। তারা চায় তৃণমূলের পাশে যিনি সারাজীবন ছিলেন তাকেই যেনো মনোনয়ন দেওয়া হয়।
অন্যদিকে প্রার্থী ঘোষিত জয়নুল আবদিন ফারুক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, আমি একজন প্রার্থী, সে হিসেবে আমার কাজ জনগণের কাছে যাওয়া। আজ মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করেছি। দলের নির্দেশনা কেউ অমান্য করলে সেটা কেন্দ্র দেখবে। এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।