পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ২১:০৩ পিএম
আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ২১:০৩ পিএম
প্রতিকী ছবি।
মিথ্যা বিয়ের নাটক সাজিয়ে সংসার পেতে তিন বছর ধরে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সোমবার (১৭ নভেম্বর) মো. রুবেল মুন্সী নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী।
ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ লায়লাতুল ফেরদৌস মামলাটি গ্রহণ করে বরগুনার গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ৭ দিনের মধ্যে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিশেষ পিপি রনজুয়ারা সিপু।
অভিযুক্ত রুবেল মুন্সী (২৮) বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বাইনচটকী গ্রামের মো. রুস্তুম আলী মুন্সীর ছেলে এবং ও ভুক্তভোগী নারী ওই যুবকের প্রতিবেশী।
মামলা সূত্রে জানা যায়, চার বছর আগে ওই নারী তালাকপ্রাপ্ত হন। পাশাপাশি বাড়ি হওয়ায় রুবেল মুন্সী ওই নারীর বাড়িতে যাওয়া-আসা শুরু করেন। বাদী ও তার বাবার বিপদ-আপদে সব সময় এগিয়ে আসতেন রুবেল। এ কারণে ওই যুবককে বিশ্বাস করতেন তারা। এর সুবাধে ৩ বছর আগে রুবেল ওই নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। পরে কুরআন শরীফ সাক্ষী রেখে স্থানীয় মৌলভী দিয়ে গোপনে বাদীকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর রুবেল ওই নারীকে ঢাকায় বাসা রেখে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে তিন বছর সংসার করেন।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমি ও আমার পরিবার রুবেলকে বারবার কাবিন দেওয়ার জন্য বলেছি, সে বলে কিছু দিনের মধ্যেই কাবিন দেব। এভাবে তিনটি বছর কেটে যায়। ঢাকা থেকে আমরা বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসতাম, কিছুদিন থেকে আবার ঢাকায় চলে যেতাম। কিছুদিন আগে আমরা আবার বাড়িতে বেড়াতে আসি।
তিনি আরও বলেন, গত ১৪ নভেম্বর সকালে আমার বাবা ও আমি রুবেলের কাছে আবারও কাবিন রেজিস্ট্রি করে দিতে বলি। এ সময় রুবেল উত্তেজিত হয়ে বলে আমার সঙ্গে তোমার কোনো সম্পর্ক নেই, আমি তোমাকে বিয়ে করিনি। এ কথা বলে সে চলে যায়। আমি রুবেলকে বোঝাতে চাই, কাবিন না হলে বিয়ের স্বীকৃতি হয় না। রুবেল আমাকে সাফ জানিয়ে দেয় সে আমাকে বিয়ে করেনি। তিন বছর সংসার করার পরে এখন বিয়ে অস্বীকার করে। রুবেলকে আমি তিন বছর বিশ্বাস করে তার সঙ্গে সংসার করেছি। অসংখ্যবার রুবেল আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছে। সে আমার সঙ্গে প্রতারণা করে বিয়ের নাটক সাজিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করবে তা আমি ও আমার পরিবার বুঝতে পারিনি।
এ বিষয়ে জানতে রুবেলের ফোন নাম্বার বাদীর কাছ থেকে সংগ্রহ করে কল দিলে তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।
বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকরাম হোসেন বলেন, আদালতের আদেশ পেলে তদন্ত শুরু করব।