শেখ হাসিনার রায়
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:২২ পিএম
মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রায় ইস্যুতে অনেকটাই নিরুত্তাপ ছিল চট্টগ্রাম। রবিবার (১৬ নভেম্বর) রাতে পতেঙ্গা এলাকায় দুটি বাস ও বাকলিয়া সার্কেল ভূমি অফিসের সাইনবোর্ডে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটলেও সোমবার (১৭ নভেম্বর) দিনভর স্বাভাবিক ছিল চট্টগ্রামের জনজীবন। এই দিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নগরীর কোথাও রায়ের পক্ষে বা বিপক্ষে কোন মিছিল, সভা কিংবা কার্যক্রম দেখা যায়নি।
কিন্তু বিকেল চারটার দিকে নগরীর ষোলশহর দুই নম্বর গেইট এলাকায় মিষ্টি বিতরণ ও শোকরানা মিছিল ডাকা হয় ‘চট্টগ্রামের ছাত্র সমাজ’ নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে। চারটার দিকে ওই স্থানে শতাধিক তরুণ জড়ো হয়। তারা মিষ্টি বিতরণ করে। পরে সেখানে শোকরানা সেজদায় অংশ নেন তাদের কয়েকজন। এরপর তারা মিছিল নিয়ে জিইসি মোড় এলাকা প্রদক্ষিণ করেন।
সেখানে অংশ নেওয়া এনসিপি চট্টগ্রাম নগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, ‘আজকের রায়ে আমরা প্রাথমিকভাবে সন্তুষ্ট। আমরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট হব যেদিন শেখ হাসিনার ফাঁসি কার্যকর হবে। এখন যারা জেলে আছে তাদের রায়ের অপেক্ষায় আছি। আর আইজিপি মামুনের যে রায় হয়েছে এটাকে যথেষ্ট মনে করিনা। তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। তবু যে অর্জন সেটা মানুষের সঙ্গে মিষ্টি বিতরণ করে আমরা শেয়ার করছি।’
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা অধ্যাপক ইউনুসের পক্ষে সম্ভব মন্তব্য করে আরিফ মঈনুদ্দিন আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি তিনি এটি করবেন।’
এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় চট্টগ্রামে শহীদ পরিবারের স্বজন ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
চট্টগ্রামে শহীদ হওয়া ওয়াসিমের বাবা শফি আলম বলেন, ‘আজকে সকাল থেকে এ রায়ের অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে কাঙ্খিত রায় দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। দেশবাসীর মতো আমিও আনন্দিত ও খুশি হয়েছি। শুধু হাসিনা নয়, সকল চিহ্নিত হত্যাকারী, হামলাকারী ও নির্দেশদাতাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’
শহীদ ফয়সাল আহমেদ শান্তর মা কহিনূর আক্তার বলেন, ‘রায় শুনে একটু শান্তি লাগছে। যতক্ষণ পর্যন্ত এই রায় কার্যকর হচ্ছে না, ততক্ষণ পুরোপুরি শান্তি লাগবে না। বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক মহলের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, হাসিনাকে দেশে এনে ফাঁসি কার্যকরে যেন তাঁরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন।