× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

হতদরিদ্রের ‘ফেয়ার প্রাইজে’ চাল নিতে দিতে হচ্ছে ট্যাক্স

গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০২৫ ২০:১২ পিএম

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৫ ২০:১৬ পিএম

হতদরিদ্রের ‘ফেয়ার প্রাইজে’ চাল নিতে দিতে হচ্ছে ট্যাক্স

পটুয়াখালীর গলাচিপায় গোলখালী ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ‘ফেয়ার প্রাইজে’র চাল পেতে হতদরিদ্রদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ট্যাক্স আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্যানেল চেয়ারম্যান আবু সাঈদ আকনের নির্দেশে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে মাথাপিছু ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। আর টাকা না দিলে দেওয়া হচ্ছে না চাল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। 

রোববার (১৬ নভেম্বর) সকালে ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নলুয়াবাগী স্লুইস বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ১৫ টাকা কেজি দরের ফেয়ার প্রাইজের চাল কিনতে গেলে প্রথমেই কার্ডধারীদের ট্যাক্স দিতে বলা হচ্ছে। ট্যাক্স না দিলে দেওয়া হচ্ছে না চাল। ট্যাক্স আদায়কারী বলছেন, এই টাকা নাকি ইউনিয়ন পরিষদের হোল্ডিং ট্যাক্সের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। আর এই নির্দেশ দিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আবু সাঈদ আকন।

সহিদুল মুসল্লী, আশরাফ, নুরআলমসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, ‘ফেয়ার প্রাইজে’র চাল নিতে এলে আগে ট্যাক্স দিতে হয়। কারো কাছ থেকে ১০০, আবার কারো কাছে ১৫০-২০০ টাকা নিয়েছে। টাকা না দিলে চাল দেবে না, বলে দিয়েছে তাই বাধ্য হয়ে টাকা দিতে হয়।

সুবিধাভোগীরা আরও জানায়, আগে ৩০ কেজির বস্তা সরবরাহ করলেও এখন বাড়ি থেকে বস্তা আনতে হচ্ছে। ৪৫০ টাকায় ২৯ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে যেখানে মাথাপিছু ১ কেজি চাল কম দেওয়া হয়েছে। আবার চাল পেতে নতুন কার্ড করতে নেওয়া হয়েছে ২০০ টাকা। আর চাল নিতে গেলে ট্যাক্স রশিদ দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে বাধ্য হয়ে হতদরিদ্ররা ট্যাক্সের টাকা পরিশোধ করে চাল ক্রয় করছেন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নলুয়াবাগী স্লুইস বাজারে ডিলার আসমার অনুপস্থিতিতে দুই যুবক চাল বিক্রি করছেন। পাশে ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলামের উপস্থিতিতে মতিউর রহমান নামে এক ব্যক্তি খাতা নিয়ে ট্যাক্স আদায় করছেন। লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছেন কার্ডধারীরা। এ সময় কিছু ব্যক্তিকে রশিদ দেওয়া হলেও অনেককে টাকা পরিশোধ করার পরও রশিদ দেওয়া হয়নি। এ সময় ট্যাক্স আদায়কারীর পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাকে চেয়ারম্যান দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের নিয়োগ প্রাপ্ত কোনো কর্মচারী নন। 

স্থানীয় যুবক হোসেন মোহাম্মদ আফজাল বলেন, ফেয়ার প্রাইজের মতো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির চাল আটকে রেখে ট্যাক্স আদায় করা সম্পূর্ণ বেআইনি। ইউনিয়ন পরিষদের আইন ২০০৯ অনুযায়ী হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের নিজস্ব নিয়ম রয়েছে। সরকারি খাদ্য সহায়তা আটকে রেখে টাকা নেওয়া অপরাধ। 

গোলখালী ইউনিয়নের ফেয়ার প্রাইজের ডিলার আসমার চাল বিক্রির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ডিলারের চাল বিক্রির সঙ্গে ট্যাক্সের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা চাল বিক্রি করছি। পাশে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্যাক্স আদায় করছেন। আর ১ কেজি চাল কম দেওয়ার ব্যাপারে তারা জানান, পরিবাহন ঘাটতি হিসেবে কম দেওয়া হয়েছে। 

তবে গোলখালী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আবু সাঈদ আকন বলেন, ট্যাক্স আদায় করার সুবিধার্থে চাল বিতরণের জায়গা থেকে নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নের সকল ডিলারকে বলা আছে চাল বিক্রির সময় ট্যাক্স আদায় করা হবে। মানুষজন ট্যাক্স দেয় না, তাই বাধ্য করে এইভাবে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। আর ইউনিয়ন পরিষদের লোক না থাকায় ওই বৃদ্ধাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান বলেন, ফেয়ার প্রাইজের চাল বিক্রির সঙ্গে ট্যাক্স আদায়ের কোনো সম্পর্ক নেই। ইউনিয়ন পরিষদ কেন এভাবে নিচ্ছে বিষয়টা আমার আগে জানাতে হবে তারপর বলতে পারব। তিনি আরও বলেন, চাল বিক্রির সঙ্গে অন্য কোনো সার্ভিস যুক্ত করার বিষয় আমাদের কোনো নির্দেশনা বা অনুমতি নেই। বিষয়টি আমার অজানা; খোঁজ নিয়ে দেখছি। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. নাসির উদ্দীনও জানান, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। 

এদিকে গোলখালী ইউনিয়নের হতদরিদ্র জনগণ এই অনিয়ম বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ও স্থায়ী সমাধান দাবি করেছেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা