নেত্রকোণা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৫১ পিএম
আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:০৯ পিএম
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় কর্মহীন ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির দুই কোটি টাকারও বেশি চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাওসার আহমেদ কৌশলে এমন অপকর্ম করেছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৯ হাজার ৪১৮ কার্ডধারীর জন্য বরাদ্দকৃত চলতি বছরের আগস্ট মাসের ২৮০ মেট্রিক টন ও সেপ্টেম্বর মাসের ২৮০ মেট্রিক টন মোট ৫৬০ মেট্রিক টন চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ২৬ জন ডিলার এসব চাল কার্ডাধারীর মাঝে বিক্রি করার কথা। কিন্তু উপজেলা খাদ্য নিযন্ত্রক অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে কারসাজি করে ডিলারদের না জানিয়েই সমুদয় চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দেন। বিক্রীত চালের বর্তমান বাজারমূল্য ২ কোটি টাকারও বেশি হবে।
এদিকে ভুক্তভোগীরা বরাদ্দকৃত চাল না পেয়ে অনেকেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ দেওয়ার পর থেকেই খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাওসার আহমেদ দফায় দফায় ডিলারদেরকে নিয়ে বৈঠক শুরু করেন। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে বলেও জানা গেছে।
তবে কালোবাজারে চাল বিক্রির ঘটনায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত চলছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমদাদুল হক তালুকদার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ডিরার বলেন, এ ঘটনায় আমরা হতবাক হয়েছি। আমরা ডিলার। বেশি কিছু বলতে গেলে আমরাও নানা অসুবিধার মুখে পড়ে যাই। খাদ্য নিয়ন্ত্রক ডিলারদের ডিলারশিপ নবায়ন করার কথা বলেও প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩০ হাজার করে টাকা নিয়েছেন। আবার আমাদের না জানিয়ে কীভাবে বরাদ্দকৃত চাল বিক্রি করে দিলেন তিনি। ঘটনাটির তদন্ত চলছে। দেখি ফলাফল কী হয়।
এক ডিলার বলেন, নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রতিজনের কাছ থেকে ১ হাজার করে টাকা নিয়ে নতুন ৭০০ কার্ড করা হয়েছে। নতুন কার্ডধারীদের সব চালই বিক্রি করে দিয়েছেন খাদ্য নিয়ন্ত্রক।
এ বিষয়ে খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাওসার আহমেদ গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, আগস্ট মাসের চাল বিক্রির ক্ষেত্রে কিছুটা অনিয়ম হয়েছে। সুবিধাভোগীরা যথানিয়মে চাল পাননি। চাল বিক্রির সময় ট্যাগ কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই সুবিধাভোগীদের মাঝে চাল বিক্রি করা হয়। কিন্তু কীভাবে অনিয়ম হয়েছেÑ সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তিনি অনিয়মের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ না করার জন্য দাবি করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।