নাটোর প্রতবিদেক
প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৪৬ পিএম
শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখার লক্ষ্যে সারাদেশের নির্বাচিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘স্কুল ফিডিং’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকালে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। এসময় তিনি বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীই সম্ভাবনাময়। তারাই ভবিষ্যতের সুনাগরিক। তাদের অপার সম্ভাবনাকে বিকশিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশ ঘটে। পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা গেলে তাদের শারীরিক বিকাশও ঘটবে। এতে শিক্ষার্থীরা স্কুলমুখী হবে এবং পড়াশুনায় মনোযোগী হবে।
অধ্যাপক বিধান রঞ্জন বলেন, গুনগতমানের শিক্ষা এবং সুষম ও পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি সহ-শিক্ষা অর্থাৎ খেলাধূলা, সংগীত, বিতর্ক, বক্তৃতা আয়োজনের মাধ্যমে শিশুর মানসিক ও চারিত্রিক বিকাশ ঘটে। নিয়মিত স্কুলে গেলে শিক্ষার্থীরা শৃঙ্খলার মধ্যে আসে, তাদের নৈতিক বিকাশ ঘটে এবং সামাজিকতায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীদের সাবলীলভাবে মাতৃভাষায় পড়তে ও লিখতে পারা এবং গণিতের নিয়মগুলো ঠিকমত পারাই প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য। সবার সম্মলিত সহযোগিতায় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেনÑ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান এবং ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’র প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
জানা যায়, ২০২৭ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদকালে দেশের নির্বাচিত ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩১ লাখ ১৩ হাজার শিক্ষার্থীকে সপ্তাহে পাঁচ স্কুল কর্ম দিবসে ফর্টিফাইড বিস্কুট, কলা বা মৌসুমি ফল, বনরুটি, ডিম এবং ইউএইচটি দুধ তথা পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হবে। এর মধ্যে রবিবারে ১২০ গ্রাম ওজনের বনরুটি এবং সিদ্ধ ডিম, সোমবারে বনরুটি এবং ২০০ গ্রাম ইউএইচটি দুধ, মঙ্গলবারে ৭৫ গ্রাম ওজনের ফর্টিফাইড বিস্কুট এবং কলা বা স্থানীয় মৌসুমি ফল, বুধবার এবং বৃহস্পতিবারে বনরুটি এবং সিদ্ধ ডিম দেওয়া হবে।
প্রস্তাবিত খাদ্য তালিকায় মোট এনার্জির ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ৩২ দশমিক ২ শতাংশ, প্রোটিনের ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ফ্যাটের ২১ দশমিক ৭ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।