চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০২৫ ২১:২০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত।
সুফি মতাদর্শে বিশ্বাসী তিনটি দলের ‘বৃহত্তর সুন্নি জোট’ ১৩ দফা দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছে। এই লক্ষ্যে পাঁচটি বিভাগীয় শহরে পাঁচটি মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথম মহাসমাবেশটি শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিকালে চট্টগ্রামের লালদিঘি মাঠে হবে। তা ছাড়া জোটগতভাবে দল তিনটি নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে। তিনটি দলই নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত।
জানা যায়, সুফিবাদে বিশ্বাসী তিনটি দলÑ ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি ‘বৃহত্তর সুন্নী জোট’ নামে গত তিন মাস ধরে জোটবদ্ধ নানা কর্মসূচি পালন করে। গত ২ নভেম্বর নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৩ দফা ঘোষণা করে। একই সঙ্গে পাঁচটি শহরে মহাসমাবেশের তারিখও ঘোষণা করা হয়। দ্বিতীয় সমাবেশটি ২২ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ, ২৯ নভেম্বর কুমিল্লা, ৬ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ এবং ২০ ডিসেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের মহাসমাবেশ প্রস্তুতি কমিটির সমন্বয়ক এএম মঈনুদ্দিন চৌধুরী হালিম বলেন, সুফি ভিত্তিক তিনটি সংগঠন এখন অভিন্ন প্লাটফর্মে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। চট্টগ্রামের সমাবেশে তিন চেয়ারম্যান এবং মহাসচিব উপস্থিত থাকবেন।
সমাবেশ প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক আবদুন নবী আলকাদেরী বলেন নির্বাচনের নির্দিষ্ট রোডম্যাপ না পাওয়ায় অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা সুষ্ঠু, সুন্দর ও স্বচ্ছ নির্বাচনের দাবি করছি।
বৃহত্তর সুন্নী জোটের ১৩ দফা দাবির মধ্যে আছেÑ জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট, রাষ্ট্রীয় বৈঠকে সব নিবন্ধিত দলের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান, দুর্নীতিবাজ কালো টাকার মালিক ও দণ্ডিতদের অযোগ্য ঘোষণা, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা, পার্বত্য জেলায় বিদেশি মদদপুষ্ট সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ, টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করা, আরাকান আর্মিকে করিডোর না দেওয়া, মাজার-খানকা-দরবার ও ধর্মীয় নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইত্যাদি।
জানা যায়, সুফি ভিত্তিক রাজনেতিক দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরেই নানা ইস্যু নিয়ে মতবিরোধ ও মতানৈক্য ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সুফি ভিত্তিক তিনটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐক্যের আবহ তৈরি হয়। সবাই ঐক্যবদ্ধ বিষয়টার গুরুত্ব বুঝতে শুরু করেন। এরপর তিনটি দলের সিনিয়র পর্যায়ের নেতারা আলোচনা শুরু করেন।
অন্যদিকে, সুফি ভিত্তিক অরাজনৈতিক সংগঠন ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত’ ছিল তিন ভাগে বিভক্ত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভক্ত তিনটি অংশের সিনিয়র নেতারা একাধিক বৈঠক করেন। এরপর সম্মিলিত সিদ্ধান্তে তিনটি অংশই বিলুপ্ত ঘোষণা করে ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত বাংলাদেশ’ নামেই একটি প্লাটফর্ম তৈরি করেন। সংগঠনের নেতাকর্মীরা বলেন, গত দেড় দশকের জাতীয় নির্বাচনগুলো ছিল বিতর্কিত, জনগণ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।