ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০২৫ ২১:১৯ পিএম
ফেনীর দাগনভূঞায় একাধিক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে স্কুলের এক প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
অভিযুক্ত হলেন উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের দক্ষিণ নেয়াজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঈন উদ্দিন চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম এ বরখাস্তের আদেশ দেন।
ইউএনও স্বাক্ষরিত পত্রে জানানো হয়, ফেনীর মহিপাল চাড়িপুর এলাকায় মঈন উদ্দিন চৌধুরী নিজের বাসার এক ভাড়াটিয়ার ১২ বছর বয়সী স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে কৌশলে যৌন হয়রানি করেন। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় ওই শিক্ষকের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পরে ওই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও অবরোধ করে এলাকাবাসী ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা।
এছাড়া ভুক্তভোগী একাধিক পরিবারের পক্ষ থেকে দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়। এর পর অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের শাস্তি ও বিদ্যালয় থেকে অপসারণ দাবি জানানো হয়। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে সবশেষ ঘটনার পর থেকে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। এছাড়া মামলার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে আছেন। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মঈন উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করে এর কপি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করেন।
এদিকে শিক্ষক মঈন উদ্দিনের কঠোর শাস্তি দাবি করে শিক্ষাথী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী বলেন, প্রধান শিক্ষকের এমন কান্ডে একাধিক বার বিদ্যালয় ও এলাকায় আন্দোলন হয়েছে। তার জন্য প্রতিষ্ঠানের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে জানান ওই বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের। তিনি বলেন, নৈতিকতার দিক বিবেচনা করলে প্রধান শিক্ষক আর বিদ্যালয়ে থাকতে পারবেন না।
সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. ফারুক হোসেন বলেন, এ ঘটনার পর থেকে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে এসে খবর নিচ্ছেন প্রধান শিক্ষকের। মঈন উদ্দিন বিদ্যালয়ে গেলে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
আগেও একাধিক বার ছাত্রদের যৌন হয়রানি, আর্থিক অনিয়মসহ নানা অভিযোগ উঠে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বেশ কয়েকবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কয়েকবার এলাকাবাসী তাকে মারধর করে বিদ্যালয় থেকে বের করে দিয়েছে।
এর আগেও ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রীকে বোরকা ও হিজাব পরা নিয়ে কটুক্তি করার ঘটনায় শিক্ষক পরিমল চন্দ্র ভৌমিককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।