শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৪৬ পিএম
সুপার সাইক্লোন সিডর দিবস শনিবার। ভয়াবহ এই দিনটিতে পূর্তি হলো ঘূর্ণিঝড় সিডরের ১৮ বছর। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর দানবীয় শক্তি নিয়ে উপকূলে আঘাত হানে সিডর। সেই রাতের জলোচ্ছ্বাস ও তাণ্ডবে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল বাগেরহাটের শরণখোলা। মুহূর্তে ভেসে গিয়েছিল বসতবাড়ি, গবাদিপশু, ফসল, গাছপালাসহ সহস্রাধিক মানুষ প্রাণ হারায়। স্বজনহারা মানুষের বিলাপে কাঁপছিল উপকূল।
সিডরের পর দীর্ঘ সময় টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় ভয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল ভাঙন ও ঘনঘন জলোচ্ছ্বাসে। অবশেষে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় ৬২ কিলোমিটার দীর্ঘ উঁচু বেড়িবাঁধ। এর মধ্যে শরণখোলার ঝুঁকিপূর্ণ বলেশ্বর নদের তীরে প্রায় ২০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করে চীনা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘সিএইচডব্লিউই’। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া কাজ শেষ হয় সাত বছর পর, ২০২৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর। তবে হস্তান্তরের মাত্র দুই বছরের পর বাঁধটির বেশিরভাগ অংশ ভয়াবহ ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বলেশ্বর নদের তীরবর্তী অন্তত ১১টি স্থানে সিসি ব্লক ধসে মূল বাঁধে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ফাটল। প্রকল্পে সম্ভাব্যতা যাচাই, নির্মাণ ত্রুটি ও নদী শাসনের অভাবকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা- দ্রুত নদী শাসন না করলে অল্পসময়ের মধ্যেই বাঁধ পুরোপুরি ধসে পড়তে পারে।
গাবতলা, দক্ষিণ সাউথখালী ও উত্তর সাউথখালী এলাকার বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সিডরের রাতে টেকসই বাঁধ না থাকায় আমরা স্বজন হারিয়েছি। ঘরবাড়ি গেছে। এত বছর পর উঁচু বাঁধ পেলেও তা টেকসই হয়নি। নদী শাসন ছাড়াই বাঁধ নির্মাণ করায় বছর যেতে না যেতেই ভাঙন ধরেছে। এখন আবার আতঙ্কে দিন কাটছে।’
শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন পঞ্চাতে অভিযোগ করে বলেন, ‘নদী শাসন ছাড়া কোনো বাঁধ টিকবে না। তৎকালীন সরকার ও বিশ্বব্যাংক কর্তৃপক্ষ বাঁধ নির্মাণে বড় ধরনের ভুল করেছে, হয়েছে ব্যাপক দুর্নীতি। মাটি পরিবর্তে নদীর বালু ব্যবহার করায় বাঁধ উঁচু হলেও শক্ত হয়নি। দ্রুত নদী শাসন ও দুর্নীতি তদন্ত জরুরি।’
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় এক হাজার মিটার এলাকায় ভাঙনরোধে জরুরি কাজ শুরু হয়েছে। শরণখোলার বগী এলাকায় প্রায় ৭০০ মিটারে বালুভর্তি জিও ব্যাগ, সিসি ব্লক এবং ফাসিয়াতলা এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হবে।
১৮ বছর আগের সেই বিভীষিকাময় রাতের স্মৃতি আজও বয়ে বেড়ানো শরণখোলাবাসী তাই আবারও দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। উপকূলবাসীর একটাই দাবি আমাদের বাঁচাতে টেকসই বাঁধ চাই, নদী শাসন চাই।