নাশকতা পরিকল্পনা
সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০২৫ ২১:০১ পিএম
সুনামগঞ্জে নাশকতার পরিকল্পনা, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং সরকারি স্থাপনায় হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের ৩৫ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করে মামলায় করা হয়েছে।
বুধবার (১২ নভেম্বর) রাতে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধিত, ২০১৩) এর একাধিক ধারায় মামলাটি করেন থানার এসআই মোহাম্মদ আনিসুর রহমান।
এ ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন- সুনামগঞ্জ পৌর শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বখতিয়ারুল হক মাহি (২৩), জেলা শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নিহার রঞ্জন (৪০) ও জেলা শাখা যুব মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিনা দাশ (৪০)।
মামলার বাদী এসআই আনিসুর রহমান এজাহারে উল্লেখ করেন, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যরা দেশকে অস্থিতিশীল করতে বিগত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছিল।
এজাহারে বলা হয়, বুধবার রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটে সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের লালপুর ব্রিজের ওপর নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কতিপয় সদস্য নাশকতার পরিকল্পনা ও সরকারি সম্পত্তিতে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এসআই আনিসুরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রাত সাড়ে ৯টায় ওই স্থানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সমবেত ব্যক্তিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বখতিয়ারুল হক মাহি ও নিহার রঞ্জনকে আটক করে।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১০টা ১০ মিনিটে সুনামগঞ্জ এনা পরিবহনের কাউন্টার থেকে মিনা দাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। এজাহার অনুযায়ী, তিনি বৃহস্পতিবারের (১৩ নভেম্বর) ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচিতে যোগদানের উদ্দেশ্যে ঢাকা যাচ্ছিলেন। পুলিশ তার কাছ থেকে একটি ভিভো মোবাইল ফোন এবং বাসের টিকিট জব্দ করে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, আসামিরা রাষ্ট্রের জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে এবং প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র ও ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের পরিকল্পনা করছিল। তারা রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করে।
এই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ৩ জন ছাড়াও আরও ৩২ জনকে পলাতক আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র নাদের বখত (৫৯), জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নোমান বখত পলিন (৫৫), জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রিপন মিয়া ওরফে আশিকুর রহমান (৩৩), পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি শিহাব নুর (২৮), জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মো. শাহারুল আলম (৪২)।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল কালাম বলেন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।