মাগুরা সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭:৫৮ পিএম
আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২২ ১৮:২৩ পিএম
মাগুরা সদরে নিজের চায়ের দোকানে ইব্রাহীম ওরফে মোহামেডান। ছবি : প্রবা
ইব্রাহীম হোসেন। পেশায় চায়ের দোকানদার। বাড়ি মাগুরা পৌর এলাকার পারনান্দুয়ালী গ্রামে। নাম তার ইব্রাহীম হলেও মোহামেডানের চায়ের দোকান হিসেবেই শহরে বেশ পরিচিতি। ‘ডাবল হিটের’ (দুবার জাল করা) দুধচা এখানে সবচেয়ে প্রচলিত। সন্ধ্যা হলেই গরম চায়ে চুমুক দিতে এখানে ভিড় জমান শহরের বিভিন্ন প্রান্তের পরিবারসহ যুবকরা।
নব্বইয়ের দশকে যখন দেশজুড়ে ফুটবলে মোহামেডান-আবাহনীর উন্মাদনা, সেই সময় ছোট থাকতেই মোহমেডানের ভক্ত হয়ে পড়েন ইব্রাহীম। এ কারণেই ইব্রাহীমের এক মামা তার নাম রেখে দেন মোহামেডান। এরপর থেকে মোহামেডান নামেই আশপাশের মানুষের কাছে পরিচিতি পান এই যুবক।
পেশায় চা বিক্রেতা হলেও ফুটবলের প্রতি রয়েছে তার গভীর ভালোবাসা। নিয়মিত খেলেন স্থানীয় লিগগুলোতে। মাগুরা শহরের ইসলামপুরপাড়ায় একটি চায়ের দোকান আছে তার। কাতারে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে সেই চায়ের দোকানটি আর্জেন্টিনার পতাকায় মুড়েছেন এই যুবক। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে নিজের দোকানকে এভাবে সাজিয়েছেন তিনি।
ইসলামপুরপাড়ায় চায়ের দোকানে কথা হয় ইব্রাহীম ও তার বাবা লিয়াকত আলীর সঙ্গে। লিয়াকত আলী বলেন, দুই যুগের বেশি সময় ধরে এই এলাকায় তার চায়ের দোকান। দুই ছেলে ও তিন মেয়ের একজন ইব্রাহীম। তিন মেয়ের বিয়ে হয়েছে, এক ছেলে ইজিবাইক চালায়। আর ইব্রাহীম বাবার সঙ্গে থাকেন, চায়ের দোকান সামলান। পাশেই পূর্বাশা সিনেমা হল। হলটি এখন বন্ধ হওয়ায় চা বিক্রি কমে গেলেও সন্ধ্যার পর মোহামেডানের চায়ের দোকান থাকে জমজমাট।
ইব্রাহীম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, তিনি নিজে ফুটবল খেলার পাশাপাশি আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের ভক্ত। এ কারণে দোকানের সামনে পতাকা টানানোর পাশাপাশি পুরো দোকান মুড়িয়েছেন আকাশি নীল রঙে। চা তৈরির সময় ফুটবলের নানা বিষয়ে গল্প বলেন ইব্রাহীম।
এই যুবক বলেন, ‘অল্প বয়সে বাবার সঙ্গে চায়ের দোকানে বসতে হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পরে আর স্কুলে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। তবে কাজের পাশাপাশি ফুটবল খেলি নিয়মিত। মাগুরার লিগগুলোতে খেলি অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে। পরিবারের ভার সামলাতে খেলা ছেড়ে এখন নিয়মিত চায়ের দোকানে বসেছি।’
ইব্রাহীম বলেন, ‘আজ রাত ৯টায় আর্জেন্টিনার খেলা। উত্তেজনার মধ্যে আছি।’
ইব্রাহীম জানান, কয়েক বছর আগে ঢাকার টঙ্গীর একটি ক্লাবে তৃতীয় বিভাগে খেলেছিলেন। দ্বিতীয় বিভাগেও খেলার সুযোগ হয়েছিল। তবে আর্থিক অনটনসহ বিভিন্ন কারণে বেশিদূর যাওয়া হয়নি। ফিরে আসতে হয়েছে চায়ের দোকানে।
টঙ্গীতে খেলার সময় একই দলে খেলতেন ইয়াসিন খান। সেই ইয়াসিন এখন জাতীয় দলের পাশাপাশি শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের নিয়মিত খেলোয়াড়। কথা বলতে বলতে ইয়াসিনকে মোবাইল ফোনে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেন ইব্রাহীম।
ফুটবলার ইয়াসিন ইব্রাহীম সম্পর্কে বলেন, ‘ও খুব ভালো ছেলে। ভালো খেলত। আমাদের ভালো বন্ধুত্ব এখনও।’