নড়াইল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৩৮ পিএম
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় ছেলে হত্যার বিচার দাবিতে সাবেক স্ত্রী ও ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মো. মনিরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তি।
বুধবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার লোহাগড়া প্রেস ক্লাবের হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মনিরুজ্জামান অভিযোগ করেন, তার ছেলে মো. আশরাফুল ইসলামকে (তৎকালীন বয়স ১ বছর) তার সাবেক স্ত্রী মোছা. আয়েশা সিদ্দিকা ও ছোট ভাই মো. আমিনুর ফকির পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন।
মনিরুজ্জামান লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের দেবী গ্রামের মৃত আব্দুল মানান ফকিরের ছেলে। তিনি জানান, ২০০৮ সালে তিনি নলদী ইউনিয়নের চর-বালিদিয়া গ্রামের সিদ্দিক মুন্সির মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকাকে বিয়ে করেন। পরের বছর তাদের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়- যার নাম রাখা হয় আশরাফুল ইসলাম।
তার অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই ছোট ভাই আমিনুর ফকিরের সঙ্গে তার স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১০ সালে স্ত্রী ও ছোট ভাই মিলে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। পরবর্তী সময়ে তিনি আয়েশাকে তালাক দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। কিছুদিন পর আয়েশা ও ছোট ভাই আমিনুর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
মনিরুজ্জামান বলেন, ‘২০১১ সালে আমি ও আমার দ্বিতীয় স্ত্রী পুলিশের সহায়তায় আমার ছেলে আশরাফুলকে নিতে গেলে, আমার সাবেক স্ত্রী ও ছোট ভাই পুলিশের সামনেই আমাকে অপমান করে তাড়িয়ে দেয়। এরপর কয়েক মাসের মধ্যে তারা আমার ছেলেকে হত্যা করে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করে।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘ছেলে হত্যায় আমার ছোট ভাই ও সাবেক স্ত্রীর পাশাপাশি রিজাউল শেখ, তকব ফকির, আলমগীর ফকির, আয়ুব ফকির, বক্কার মোল্যা ও ইউনুস শেখসহ আরও কয়েকজন জড়িত ছিলেন। বিষয়টি ওই এলাকার মেম্বার হায়াতুর অবগত আছেন।’
তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে খোরপোশ দাবি করে সাবেক স্ত্রী আদালতে মামলা দায়ের করেন, যেখানে তার ছোট ভাই সাক্ষী ও স্বাক্ষরকারী ছিলেন। ২০২৪ সালে বাড়ি ফেরার পর এ মামলায় তাকে হয়রানি করা হয়। এখন তিনি তার ছেলের হত্যার সুষ্ঠু বিচার চান এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আমিনুর ফকির ও আয়েশা সিদ্দিকার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা রিসিভ করেননি।
নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের মেম্বার হায়াতুর রহমান বলেন, ‘মনিরুজ্জামানের স্ত্রী আয়েশার সঙ্গে তার ছোট ভাইয়ের সম্পর্ক ছিল। পরবর্তী সময়ে মনিরুজ্জামান তাকে তালাক দেন। তাদের আশরাফুল ইসলাম নামে একটি ছেলে ছিল, সে মারা যাওয়ার পর স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। তবে কী কারণে মারা গেছে, তা আমি জানি না।’