পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০২৫ ১২:৩৬ পিএম
বরগুনার পাথরঘাটায় উপকূল দিবস পালিত হয়েছে। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশ) দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড়। এ পর্যন্ত রেকর্ডকৃত ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় এবং এটি সর্বকালের সবচেয়ে ভয়ংকরতম প্রাকৃতিক দুর্যোগের একটি। এ ঝড়ের কারণে প্রায় ১০ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়।
প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের এই দিনকে প্রতিবছর ‘উপকূল দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। উপকূলবাসী দীর্ঘদিন ধরে এই দিবসের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসছে।
‘উপকূল দিবস’ উপলক্ষে পাথরঘাটা উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের আয়োজনে বুধবার (১২ নভেম্বর) বেলা ১১টায় একটি শোভাযাত্রা পৌর শহরের গোলচত্বর থেকে শুরু করে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদ চত্বরে মুক্তমঞ্চে শেষ হয়।
পরে পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদ চত্বরের মুক্তমঞ্চে ৭০এর প্রলয়ংকরী ঝড়ে মৃতদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এর আগে মুক্ত মঞ্চে অবস্থিত সিডরে নিহত এবং ১৯৯৩ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত সাগরে নিখোঁজ জেলেদের স্মরণে স্মৃতি ফলকের শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান, পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ ফারুক, মাওলানা মনিরুল ইসলাম, সমাজসেবক ও সাংস্কৃতিক কর্মী এরফান আহমেদ সোয়েন, সমাজসেবক মেহেদী শিকদার প্রমুখ।
স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা ও দোয়া করেন সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন। এছাড়াও এ দিবসের সঙ্গে সহমত পোষণ করে উপস্থিত ছিলেন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, সিএনআরএস’র, সিসিডিবি, রূপান্তর, সংকল্প ট্রাস্ট, দৃষ্টি মানব কল্যাণ সংস্থাসহ একাধিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন।
বক্তারা ৭০ সালের ঝড় ও বন্যার স্মৃতিচারণ করেন এবং এ দিনটি উপকূল দিবস হিসেবে স্মৃতিচারণ করেন। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশ) দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড়। এ পর্যন্ত রেকর্ডকৃত ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় এবং এটি সর্বকালের সবচেয়ে ভয়ংকরতম প্রাকৃতিক দুর্যোগের একটি। এ ঝড়ের কারণে প্রায় ১০ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। এটি সিম্পসন স্কেলে ‘ক্যাটাগরি-৩’ মাত্রার ঘূর্ণিঝড় ছিল।